বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ঐতিহ্য জাদুঘরের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকালে সোসাইটির মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক সাজাহান মিয়া। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। তিনি প্রধান অতিথি, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক, সভাপতি, ফেলো, কাউন্সিল সদস্য, গবেষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ, গবেষণা এবং জ্ঞানচর্চা ছড়িয়ে দেওয়ায় জাদুঘরের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি। তার আশা, ঐতিহ্য জাদুঘরের কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানের সেমিনার পর্বে ‘ফসিল উড আর্টিফ্যাক্টস ফ্রম দ্য চাকলাপুঞ্জি এরিয়া: আ রিডাকশন সিকোয়েন্স অ্যান্ড সাইট-ফরমেশন পারস্পেকটিভ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও ভূ-প্রত্নতাত্ত্বিক সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রবন্ধে তিনি চাকলাপুঞ্জি অঞ্চলে পাওয়া জীবাশ্ম কাঠের প্রত্নবস্তু তৈরির প্রক্রিয়া, পাথর বা কাঠজাতীয় উপাদান প্রক্রিয়াজাত করার বিভিন্ন ধাপ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান গঠনের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাচীন মানুষের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উপকরণ ব্যবহারের কৌশল ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির কার্যক্রমের প্রশংসা করেন তিনি। ঐতিহ্য জাদুঘরকে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ বলেও উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সাজাহান মিয়া বলেন, সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে এশিয়ার মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও দর্শন নিয়ে গবেষণা ও প্রকাশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে ঐতিহ্য জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাদুঘরের কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সোসাইটির ফেলো, কাউন্সিল সদস্য, সাধারণ সদস্য, গবেষক, শিক্ষক এবং প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহ্য নিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
