মিল্টন সেন: চোরবাগানে পদপৃষ্ঠ হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু এবার গোটা রাজ্যের দুর্গা পুজোর তাল কেটেছিল। তবুও উৎসব থেমে থাকেনি। প্যান্ডেলে ঘোরা ঠাকুর দেখা খাওয়া দাওয়া বাদ যায়নি কিছুই। হুগলিতে পুজো হয়েছে জাঁকজমকে।
জেলার কয়েকটি নামি পুজোর মধ্যে ব্যান্ডেল কেওটা নবীন সংঘের পুজোও অন্যতম। প্রতি বছরই ভাল পুজো করে তারা। দর্শক প্রশংসা পায়। এবছর তাদের পুজোর তাল কাটে নবমীর দিন। লটারির টিকিট বিক্রির মাধ্যমে দর্শকদের অন্য পথে মানে ভিআইপি রাস্তা দিয়ে প্যান্ডেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সাধারন লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয় দর্শকদের অথচ লটারি কাটলে আগে ঢুকতে পারবে প্যান্ডেলে, এই ব্যবস্থা যা ভিআইপি লাইনের সামিল বলে মনে করে পুলিশ।
চোর বাগানের ঘটনার পর অভিযোগ উঠেছিল ভিআইপি লাইন নিয়েও। তাই প্রশাসন সতর্ক ছিলো। নবীন সংঘের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতেই দ্রুত ব্যান্ডেল ফাঁড়ির ইনচার্জ বিশ্বজিৎ পাল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজন সদস্যকে আটক করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে নবীন সংঘের সদস্যরা জি টি রোড অবরোধ করেন। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলে। পুলিশের সঙ্গে তীব্র বচসা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন সদস্যরা।
পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন এসিপি ডিডি সুমন চ্যাটার্জি। পরিস্থিতি অনুযায়ী চাপে পড়ে পুলিশ সেদিন আটক ২ সদস্যকে ছেড়ে দিলেও নবীন সংঘের সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে চুঁচুড়া থানার পুলিশ।
একইসঙ্গে আইন অমান্য করে রাস্তায় ওভারহেড গেট লাগানো নিয়েও একটি মামলা দায়ের হয় পুজো কমিটির বিরুদ্ধে। রবিবার লক্ষী পূজোর দিন সকালে নবীন সংঘের সাতজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতরা হল গৌতম দাস, ইন্দ্রজিৎ ঘোষ, মানিক পাল, টোটন কর্মকার, কার্তিক দেবনাথ, বিদ্যুৎ দাস ও দেবাশীষ দাস।
তাদের বিরুদ্ধে ভরতীয় ন্যায় সংহিতার ৯ ওয়েস্ট বেঙ্গল এমপিও এক্ট,ওয়েস্ট বেঙ্গল হাইওয়ে এক্ট সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই প্রসঙ্গে নবীন সংঘের সম্পাদক গৌতম দাস আক্ষেপের সুরে বলেন, এত বছর ধরে পূজো করছি এরকম অপদস্থ কোনদিনও হতে হয়নি। খুব লজ্জা লাগছে। দুর্গা পুজো করে গ্রেপ্তার হতে হল। ধৃতদের দুদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে চুঁচুড়া জেলা আদালত।
