আগামী জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল। ত্রয়োদশ সংশোধনী নিয়ে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের দেওয়া রায় সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করেছে এবং বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাটি পুনর্বহাল হয়েছে। আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিনির্ভর সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে এবার কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই উৎসব শেষ হয়েছে। আগামী বছরগুলোতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ১৫ থেকে ১৭ বছর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা দেখা গেছে। বর্তমান সরকার দেশকে সেই অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত করতে পেরেছে।
তিনি জানান, এবার আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ডিজিটাল অ্যাপ ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৃণমূল থেকে বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়েছে। ফলে নাশকতার পরিকল্পনা আগেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এবার সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উৎসবকে আরও আনন্দমুখর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আগে দুর্গাপূজায় সরকারি বরাদ্দ সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তা বাড়িয়ে এ বছর ৫ কোটি টাকা করেছেন। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপের জন্য চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। এ বছর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়েছেন, যার মধ্যে তিন দিন ছিল সরকারি ছুটি।
গোপালগঞ্জ সদরের খেয়াঘাটসংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু সন্ত্রাসী টহলরত পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। সংখ্যায় কম থাকায় পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হলেও ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের সাজেকের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়াসহ স্থানীয় নেতারা রাজনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৮৫ জনকে সাজা দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে তাঁকে ইতোমধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
এমএ
