ফ্রান্সে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষকসংকট নিরসন ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সরকারের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া আন্দোলন অক্টোবরেও অব্যাহত রয়েছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা মঁদ ও স্পেনের এল পাইসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কমানো, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিকল্প ব্যবস্থা, দীর্ঘ ক্লাসসূচির সংস্কার এবং জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন মেরামত।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ক্লাসসূচি, অতিরিক্ত পাঠচাপ, অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ এবং গরমের সময় ভবনের ভেতরে অসহনীয় তাপমাত্রার কারণে স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদানও বিঘ্নিত হচ্ছে।
লা মঁদের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের অনলাইন পরামর্শ প্ল্যাটফর্মে ৬ থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে জমা পড়া ৬০ হাজার ২৭৭টি মতামতের ৭০ শতাংশে ক্লাসসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ মতামতে বিদ্যালয়ের ভবন ও তাপমাত্রাসংক্রান্ত সমস্যার কথা উঠে এসেছে।
গত ৬ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বড় আকারের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ওই দিনের কর্মসূচিতে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে অবরোধের ঘটনাও ঘটে।
তবে আন্দোলনের কিছু কর্মসূচি সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, দেশটির অন্তত ২৪টি উচ্চবিদ্যালয় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা তছনছ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কর্মীদের আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার পাঁচটি ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিচ্ছে। এগুলো হলো—শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও পাঠদান নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর উন্নয়ন, ক্লাসসূচি পুনর্বিন্যাস, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির Parcoursup ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সহজবোধ্য করা এবং শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশের সুযোগ বাড়ানো।
সরকার জানিয়েছে, এসব উদ্যোগের বিষয়ে প্রথম সিদ্ধান্ত অক্টোবরের শেষ নাগাদ উপস্থাপন করা হবে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
আন্দোলন ও সহিংসতার কারণে কিছু বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ বা সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ফরাসি সরকারকে একদিকে শিক্ষা খাতের সমস্যাগুলোর সমাধান, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সরকারের ঘোষিত উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর চলমান আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
The post ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-অবরোধ, দ্রুত সংস্কারের দাবি appeared first on ভোরের চেতনা.
