কুমিল্লায় যুবদল কর্মী আবু কাউছারকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যায় সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন গোমতী নদীর পাড়ে কফিশপ নির্মাণের বিরোধের জেরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী আবু কাউছারকে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নগরীর কাপ্তান বাজার এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে তৌহিদ ও তার বড়ভাই তানজির।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় উপজেলা মডেল মসজিদের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন একটি জায়গা নিয়ে কাউছার ও তার বন্ধু শামীমের সঙ্গে তৌহিদ ও তার ভাই তানজিরের বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তৌহিদ, তানজিরসহ কয়েকজন ওই জায়গায় কফির দোকান নির্মাণের কাজ করছিলেন। দোকানটি নির্মাণ কাজে যুবদল কর্মী আবু কাউছার বাধা দিতে পারেন, এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ঘটনাস্থলে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ ও এসআরবি। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নুরপুর এলাকা থেকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিন রাতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মাছিহাতা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তৌহিদের ভাই তানজিরকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-১১।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘাতক তৌহিদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। তানজিরের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত অপর অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ১১, সিপিসি ২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম তৌহিদের ভাই তানজিরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ছত্রখিল এলাকায় যুবদল কর্মী আবু কাউছারকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং তার ভাই তানজিরকে এসআরবি-১১ গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর নুরপুর এলাকা থেকে তৌহিদকে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তানজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই কবির হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গোমতী নদীর পাড়ে সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে খুন হওয়া যুবদলের কর্মী আবু কাউছার এবং হত্যাকারী তৌহিদ ও তানজিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নিহত আবু কাউছার নগরীর কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি মহানগর যুবদলের কর্মী।
আরিফ আজগর/এসএইচএ
