প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষা, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরকারি রাজস্ব আহরণে গতিশীলতা আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, জলমহাল ইজারা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। উন্মুক্ত ও অনলাইনভিত্তিক ইজারা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিগুলোকে সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ সোমবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৯২তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘প্রান্তিক ও প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে কোনো প্রকার বাধা ছাড়া সুবিধা পেতে পারেন, সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখা হচ্ছে। সরকারি জলমহালগুলোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদয় নির্দেশনায় ভূমি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি কোনো প্রকার অন্যায় তদবির গ্রহণ না করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সরকারি জলমহাল ইজারা সংক্রান্ত সুপারিশ প্রদানের নির্দেশ দেন।
সভায় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০ একরের ঊর্ধের আয়তনের সরকারি জলমহাল ছয় বছরের (১৪৩৩-১৪৩৮ বঙ্গাব্দ মেয়াদে) ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মৌলভীবাজারের ১১টি, রংপুরের একটি, সিলেটের ১৯টি ও কুষ্টিয়ার ৩টি সহ সর্বমোট ৪টি জেলার ৩৪টি জলমহালের প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া বিবিধ আলোচনা হিসেবে বরিশালের দুর্গাসাগর দিঘী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিল চুড়ইল জলমহাল, মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত নিমগাছি প্রকল্পের ৭৭৯টি পুকুরের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং হবিগঞ্জ জেলার বিল সুতী নদী (বদ্ধ) জলমহাল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উপস্থাপিত প্রস্তাব ও বিবিধ বিষয়সমূহ কমিটির সদস্যরা কর্তৃক নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২৫টি জলমহালকে ১৪৩৩-১৪৩৮ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত মোট ছয় বছর মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়
উল্লেখ্য যে, সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৯২তম সভায় উন্নয়ন প্রকল্পে ইজারার জন্য ৩৬টি জেলার ৮২৮টি জলমহালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯টি জেলার ৭৮৬টি জলমহালের বিপরীতে ৪১১টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি অনলাইনে আবেদন দাখিল করে। ইতোমধ্যে ২৫টি জেলা হতে ১৭৪টি জলমহালের প্রস্তাব কমিটির ৮৯তম, ৯০তম ও ৯১তম সভায় উপস্থাপন করা হয়।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সায়রাত অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম সহ কমিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মৌলভীবাজার, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসকরা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
