আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে পারভেজ হোসেন ইমনের লড়াকু ইনিংসও দলকে জেতাতে পারেনি। বাংলাদেশের দেওয়া ১৬১ রানের লক্ষ্য মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে গেছে আফগানিস্তান। এই জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আফগানদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না টাইগারদের সামনে। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি দলটি।
ইমন-সাইফের ব্যাটে কোনোমতে ১৬০ রান
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ফলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান পারভেজ হোসেন ইমন। তার সঙ্গে পঞ্চম উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন সাইফ হাসান। দুজনের ব্যাটে আসে ৯৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এই জুটিই বাংলাদেশকে সম্মানজনক সংগ্রহের আশা দেখিয়েছিল।
ইমন ৯৬ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন। অন্যদিকে সাইফ হাসান ৮২ বলে ২টি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৪১ রান। তাদের বিদায়ের পর আবারও ব্যাটিংয়ে ধস নামে।
নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫ রান ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। চারজন ব্যাটার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত ৪২তম ওভারে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬০ রান।
আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ খান। তিনি ৪টি উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই দুটি করে উইকেট নেন।
শুরুতে উইকেট নিয়েও ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি বাংলাদেশ
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে আফগানিস্তান। দলীয় ৩৯ রানে দুই ওপেনারকে হারায় তারা। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ৬ রানে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। এরপর সপ্তম ওভারে সেদিকউল্লাহ অটলকে ৪ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর আশা জাগান এই পেসার।
তবে দুই উইকেট হারানোর পর আর কোনো সুযোগ দেয়নি আফগানিস্তান। ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ মিলে তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় আফগানরা।
ইব্রাহিম জাদরানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার বলে ক্যাচ তুলে দিলে মিডউইকেটে লাফিয়ে বলটি তালুবন্দি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে তাতে বাংলাদেশের ফেরার আশা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
রহমত শাহর অপরাজিত হাফসেঞ্চুরিতে আফগানিস্তানের জয়
ইব্রাহিমের বিদায়ের পর অধিনায়ক রহমত শাহর সঙ্গে যোগ দেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। দুজন মিলে অনায়াসেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ৬৬ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রহমত শাহ।
শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন আফগান অধিনায়ক। অন্যদিকে হাশমতউল্লাহ শহীদি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। হাতে তখনো ছিল ৮৭ বল।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুটি এবং মুস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট নেন। তবে শুরুতে সাফল্য পেলেও প্রতিপক্ষের ব্যাটিং জুটি ভাঙতে পারেননি বোলাররা।
ফাইনালের আগেই শেষ বাংলাদেশের স্বপ্ন
চোটের কারণে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে সিরিজে সুযোগ পেয়েছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। এই ম্যাচে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি তিনি। সাইফ হাসানকে নিয়ে তার গড়া জুটির বাইরে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বলার মতো কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি।
অন্যদিকে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতার অভাব বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত করেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই হারে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের অভিযান শেষ হলো শূন্য হাতে।
এখন ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। অন্যদিকে সিরিজ থেকে কোনো শিরোপা ছাড়াই দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে।
The post আফগানদের কাছে হেরে শূন্য হাতে ফিরছে বাংলাদেশ appeared first on SATV.
