অফুরন্ত লাবণ্য আর স্নিগ্ধতার আঁচল বিছিয়ে শরৎ বিদায়ের পর হেমন্তের প্রথম মাস কার্তিকের প্রথম দিন আজ। হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে কুয়াশার নরম ঘোমটা উঠেছে প্রকৃতির মুখে। আশ্বিনে 'গা করে শিনশিন'- এমন কথা, বিশেষ করে দেশের উত্তর জনপদের গ্রামাঞ্চলে চালু রয়েছে। তবে আশ্বিন মাসে গা শিনশিন না করলেও কার্তিকের শুরুতেই উত্তরের জেলা পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় প্রকৃতিতে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রকৃতির পালাবদলে ভোরের পরিবেশে এসেছে ভিন্নতা। কুয়াশায় ঢেকে রয়েছে রাস্তাঘাট, মাঠঘাট ও লোকালয়। সকালের পরিবর্তিত এমন আবহাওয়ায় মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চারদিক কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। এবার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আগেভাগেই শীতের আমেজ নামতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিন ধরে দিনের বেলা গরম থাকলেও সন্ধ্যা হতে না হতেই হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। কেউ কেউ মধ্যেরাতে কাঁথা-কম্বল জড়িয়ে ঘুমাচ্ছেন। হিমেল বাতাস আর ভোরের কুয়াশায় বদলে যেতে শুরু করেছে চেনা সকাল।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের ময়দানদিঘী গ্রামের বাসিন্দা নুরুজ্জামান সবুজ মাষ্টার বলেন, কয়েক দিন হলো দিনের বেলা ফ্যান (বৈদ্যুতিক পাখা) চালালেও রাতে ফ্যান চালানোর প্রয়োজন পড়ছে না। বরং শেষ রাতে কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস আর কুয়াশার আবছা দৃশ্য বলে দিচ্ছে, শীত আসন্ন।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, গত এক সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। মূলত পৌষ, মাঘ-এই দুই মাস শীতকাল ধরা হলেও এ বছর আশ্বিনের শেষের দিক থেকে রাতের বেলায় শীতল আবহাওয়া অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশাভেজা প্রকৃতিতে আগেভাগেই পাবনায় শীতের আগমনী বার্তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক (অব.) মাহবুব উল আলম বাবলু রুপালী বাংলাদেশকে বলেন, চারদিকের সাদা কুয়াশা গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে এনে দিয়েছে এক নতুন আমেজ। হেমন্ত এলেই মনে হয়, নবান্নের আমেজ দরজায় কড়া নাড়ছে। নতুন ধানের চাল আর পিঠার সুবাসে ঘরে ঘরে শুরু হবে উৎসবের প্রস্তুতি। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এক অনির্বচনীয় শান্তি ও প্রশান্তির সুর যা জানিয়ে দিচ্ছে, শীত ধীরে ধীরে, মৃদু পায়ে এগিয়ে আসছে।
