যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ইরানের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বান্দর আব্বাসের আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ইরানি সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানায়, দেশের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট নিখুঁত হামলায় ‘লুকাস-টাইপ’ মার্কিন ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়।
এমন এক সময়ে এই ঘটনাটি ঘটলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার এক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন রবিবারের মধ্যেই ইরানে সামরিক আঘাত হানতে পারে অথবা তেহরানের সাথে একটি বৃহৎ ও চমৎকার চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ইরানে পুনরায় মার্কিন হামলার গুঞ্জন তীব্র হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে একটি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের সমঝোতা হওয়া সত্ত্বেও অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি
আজহার/
আরও পড়ুন
রোমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও, পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ইতালির রাজধানী রোমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে মিলানে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর দেশজুড়ে বাড়তি সতর্কতা জারির মধ্যেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রোমে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের ব্যানারে দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে দূর-ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো মিলানের গত সপ্তাহের সহিংসতার প্রতিবাদে সমাবেশ করে। অন্যদিকে, বিকেলবেলা বামপন্থি গোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীরা ‘যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদ’-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে সন্ধ্যায় একটি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে সান্তা সুসানা চত্বরের কাছে পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। পুলিশ বাধা দিলে কিছু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বোতল, ককটেল বা বিস্ফোরক দ্রব্য এবং আতশবাজি নিক্ষেপ করতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। পরে বিক্ষোভকারীরা অন্য পথ ধরে এলাকা ত্যাগ করে।
আরও পড়ুন
এই সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী পূর্বাম্বর হিসেবে ২৮ জনকে আটক করেছে বলে ইতালীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া রোম ছাড়াও নেপলস্, বোলোনিয়া ও তুরিনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধ ও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আজও কিছু সহিংস গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন চত্বরে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা সত্ত্বেও নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করতে যারা কাজ করছেন, আমি সেই আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই।’ সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি
আজহার/
আরও পড়ুন
মক্কা-মদিনায় পড়ল ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, হামলার দাবি অস্বীকার হুথিদের
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩০ এএম
পবিত্র মক্কা নগরী। ছবি: সংগৃহীত
-->ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে সেগুলির খণ্ডিত অংশ বা ধ্বংসাবশেষ (শেল বা শার্পনেল) পড়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। তবে পবিত্র দুই নগরীকে লক্ষ্যবস্তু করার এই দাবিকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টরেট এক বিবৃতিতে জানায়, হুথি মিলিশিয়ার মক্কা আল-মোকাররমা ও মদিনা আল-মুনাওয়ারা অঞ্চলের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং আকাশে ধ্বংস করার পর সেগুলোর টুকরো বা ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মক্কার বাইরে ওয়াদি মুগামাস, জেদ্দার আল-নুজহা পাড়া, তায়েফের ওয়াদি জালিল এবং রাবিঘের একটি জনবসতিহীন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের এই টুকরো ও ধ্বংসাবশেষ এসে পড়েছে।
আরও পড়ুন
এর আগে, শনিবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে মক্কা ও জেদ্দাসহ চারটি পশ্চিমা প্রদেশে ‘সম্ভাব্য বিপদের’ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে ইসলাম ধর্মের পবিত্র দুই নগরীকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সৌদি শত্রু পক্ষ আমাদের বাহিনী পবিত্র মক্কা ও মদিনা এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে যা প্রচার করছে, তা একটি ডাহা ও বিশাল মিথ্যা।’
এর আগে, শুক্রবার ও শনিবার সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও পাইপলাইনসহ বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করে হুথিরা। গত কয়েকমাস ধরে ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর হামলা জোরদার করেছে, যা ২০২২ সালের জাতিসংঘ-মধ্যস্থতাকৃত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর দুই পক্ষের সীমান্তে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/
আরও পড়ুন
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরায়েলে হাজারও মানুষের বিক্ষোভ
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
স্থানীয় সময় শনিবার তেল আভিভের জনবহুল 'হোস্টেস স্কয়ার' প্লাজায় এই সরকারবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। গাজায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যা আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গাজায় জিম্মি থাকা পরিবারগুলোর গঠিত 'অক্টোবর কাউন্সিল'-এর ব্যানারে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। মূলত ৭ অক্টোবরের হামলার আগে সরকারের ব্যর্থতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন।
দেশটির অন্যান্য অঞ্চলেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। তেল আবিবের সমাবেশে নেতানিয়াহুর প্রধান মধ্য-ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী এবং 'ইশার' পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটসহ বিরোধী দলগুলোর বিশিষ্ট নেতারা অংশ নেন। এছাড়া 'ডেমোক্র্যাটস' দলের নেতা ইয়ার গোলানও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
আসন্ন মঙ্গলবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ব্লক এবং আইজেনকোটের ব্লকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোনো পক্ষই সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নির্ধারণ করবে ইসরায়েল ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালাবে কি না। ধারণা করা হচ্ছে, আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হলে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কম আগ্রহী হতে পারেন।
৭ অক্টোবরের হামলার জন্য দায়ীদের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে অক্টোবর কাউন্সিল। তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে একটি রাজনৈতিক কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার অর্ধেক সদস্য সরকার এবং বাকি অর্ধেক বিরোধী আইনপ্রণেতাদের মাধ্যমে মনোনীত হবে। বিরোধীরা এই পক্ষপাতদুষ্ট প্রস্তাবিত কমিশন বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
আজহার/
আরও পড়ুন
‘আজই’ ইরানে হামলা অথবা হতে পারে ‘বড় ও সুন্দর’ চুক্তি: ট্রাম্প
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
-->ওয়াশিংটন চাইলে যেকোনো সময়, এমনকি ‘আজই’ (রবিবার) ইরানে হামলা চালাতে পারে অথবা দেশটির সঙ্গে একটি ‘বড় ও সুন্দর’ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করার গুঞ্জনের মধ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি, এমনকি তা আগামীকালও (রবিবার) হতে পারে।’
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি হামলা চালাব কি-না, তা আপনাদের আগেই বলে দেব?’
তবে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে ইরান চাইলে এখনো সামরিক সংঘাত এড়াতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আসল সমস্যা হলো-তারা কি সেই চুক্তি টিকিয়ে রাখবে?’
ট্রাম্পের দাবি, তার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ চিরতরে বন্ধ করা। তিনি বলেন, এর আগে বি-২ বোমারু বিমান নিয়ে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান একটি দীর্ঘস্থায়ী ও স্থায়ী সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সংঘাতের সৃষ্টি করে। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার একটি সমঝোতা হওয়া সত্ত্বেও এই সংঘাত এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
বর্তমানে ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক হামলায় যাবে নাকি তেহরানের সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক টেবিলে বসবে-তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি
আজহার/
