
দুর্গাপূজার তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত রাজারহাটের কুমারপাড়া
শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মাটির তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মৃৎশিল্পীরা। পূজার বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত মাটির প্রদীপ, ধূপদানি, সরা ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরি করছেন তাঁরা। দিনরাত পরিশ্রম করে এসব সামগ্রী তৈরি ও বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন কারিগররা।
কুমারপাড়া গিয়ে দেখা যায়,কুমাররা মাটির তৈরি জিনিস রোদে শুকিয়ে নিচ্ছেন। শুকানোর পর সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে ব্যবহার উপযোগী করা হবে। প্রতিটি সামগ্রী তৈরিতে রয়েছে কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা।
মৃৎশিল্পীদের কাছে দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং বাড়তি আয়েরও একটি উপলক্ষ। এ সময় মাটির সামগ্রীর চাহিদা বাড়বে—এমন প্রত্যাশায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। তবে মাটির দাম, জ্বালানি ও শ্রমের খরচ বেড়ে গেলে লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
উপজেলার মৃৎশিল্পী শিবু চন্দ্র পাল জানান,এটি আমাদের পূর্বপুরুষের পেশা।পরিবারের সকলে এই পেশায় জড়িত। তবে এসকল উপকরণ তৈরিতে খরচ বৃদ্ধ হওয়ায় কিছুটা বেগ পোহাতে হচ্ছে। তবুও পারিবারিক পেশাকে টিকিয়ে রাখতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
শিবু চন্দ্র পালের সহধর্মিনী কণিকা রানী পাল জানান, সংসারের কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে স্বামীকে সাহায্য করে থাকি।এতে তার জন্য কাজটি খানিকটা সহজ হয়ে যায়।সেই সাথে সংসারে দুই-চার টাকা বাড়তি আয় হলে পরিবারের কিছুটা স্বচ্ছলতা ফিরবে।
স্থানীয় অপর মৃৎশিল্পী প্রদীপ কুমার রায় জানান, আমার বাবা খগেন রায় অর্ধশতাধিক বছর ধরে এই পেশায় জড়িত।বাবার পেশাকে টিকিয়ে রাখতেই এই পেশায় আসা।তবে এ-কাজের পাশাপাশি অন্য কাজও করতে হয়।উপকরণ সামগ্রীর খরচ বৃদ্ধি হওয়ায় এ পেশায় টিকিয়ে রাখা কঠিন হচ্ছে।
কুমারদের প্রত্যাশা, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মাটির তৈরি সামগ্রীর ভালো চাহিদা তৈরি হবে। এতে তাঁদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের জীবিকাও কিছুটা স্বস্তি পাবে।
