খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী আকবর টিপুকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার বিকালে ঢাকার উত্তরায় তার নিজস্ব ফ্ল্যাট থেকে তাকে আটক করা হয়। কেএমপি খুলনা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে খুলনার বিভিন্ন সহিংসতা ও নাশকতা মামলার আসামি হিসেবে আটক করা হয় বলে পরিবারকে জানানো হয়। আলী আকবর টিপুর বিরুদ্ধে লুটপাট, জমিদখল, চাঁদাবাজি, নাশকতা সৃষ্টি, জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন বাধা ও হামলার অভিযোগ রয়েছে।
যত অভিযোগ টিপুর নামে: খুলনা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের মাঝে ঠান্ডাপীর আলী আকবর টিপু। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সাবেক এমপি শেখ জুয়েল-শেখ সোহেলে ঘনিষ্ঠজন হিসাবে খুলনা জুড়ে দাপট ছিল তার।
শেখ পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার কারণে কেসিসি’র সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ঘনিষ্ঠজন হিসাবে সকল টেন্ডারের নিয়ন্ত্রণ করতো। কেসিসি পরিচালিত বসুপাড়া কারখানার গাছ নিলামের নামে লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। খুলনা মহানগরীর পৈপাড়া এলাকার জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ভীম দা ও রগুদার জমি বিক্রি করেন ডুমুরিয়ার এলাকার বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যানের কাছে। কিন্তু জমি দখল বুঝে নিতে আলী আকবর টিপুকে চেয়ারম্যানের গুনে দিতে হয়েছিল ৪৫ লাখ টাকা।
একইভাবে খুলনা মহানগরীর আল-আমিন মহল্লার ৫ কোটি টাকা মূল্যের দুইটি প্লট মাত্র ৫০ লাখ দিয়ে হাতিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নগরীর লাইন্স স্কুলের সামনে দরগা বাড়ি সড়কে মাসুদ নামে এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ১০ কাঠা জমি দখল করে নেয়ার পরে মাসুদ শেখ পরিবারের কর্তাদের কাছে গিয়েও উদ্ধার করতে পারেনি। একইভাবে বসুপাড়া এতিম খানা মোড়ের ১০ কাঠা জমি দখল করে নিয়েছে। অবৈধভাবে সন্ত্রাসী কাজে অস্ত্র ভাড়া দেয়ার অভিযোগ রয়েছে টিপুর বিরুদ্ধে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি বুলু বিশ্বাস পদত্যাগ করার পরে আলোচিত নেতা আলী আকবর টিপু ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নেয়। খুলনা থেকে পালিয়ে ঢাকায় আত্মগোপনে থাকেন এবং ফেসবুকে নানা পোস্ট, লাইভে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দলীয় পলাতক কর্মীদের উজ্জীবিত ও সংগঠিত করছিলেন বলে পুলিশের অভিযোগ। এরপর থেকে মহানগরীতে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন পয়েন্ট ঝটিকা মিছিল করে। লাইফে শেখ হাসিনা আসছে রাজপথ কাঁপছে বলে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনা আসে আলী আকবর টিপু।
আল্লামা সাঈদীর কবর দিতে বাধা: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলনা সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা নগরী বসুপাড়ায়। আল্লামা সাঈদী জীবনদশায় তার হাতে লেখা অছিয়তনামায় মাদ্রাসার মসজিদের সামনে দাফনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। খুলনাসহ সারা দেশের তার অনুসারীরা জানত মৃত্যুর পরে সাঈদীর দাফন তার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা চত্বরে হবে। আল্লামা সাঈদীর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলী আকবর টিপু তার অনুসারীদের নিয়ে মাদ্রাসাটি ঘিরে ফেলে। ছাত্র-শিক্ষকদের জিম্মি করে রেখে। ঘোষণা দিয়ে লাশ দাফন করতে দেয়নি। এ নিয়ে মাদ্রাসার আশপাশের মানুষ ও আল্লামা সাঈদী অনুসারীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। টিপুর আটকের মধ্যদিয়ে খুলনার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ খুলতে শুরু করছে বিক্ষুব্ধ মানুষ। বেরিয়ে আসছে তার হাতে নির্যাতিত মানুষের অজানা কাহিনী।
