এম,শাহজাহান,এম,শাহজাহান শেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ আমারে ঘর তুইলা লেংড়া লোলা প্রতিবন্ধী পোলাডারে নিয়া থাকতে দেন— না হয় মাইরা ফালাইন “স্যার” হ্যাঁ- এভাবেই বলছিলেন হতদরিদ্র অসহায় পরিবারের মমিজল হক। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির অদৃশ্য ইশারায় বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নিজের ক্রয়কৃত দখলীয় জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আতঙ্কে বিচার চেয়ে স্থানীয় ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মমিজল হক (৬৫)। প্রভাবশালীদের হুমকিতে নিজের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না তিনি। প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, মামলা-মোকদ্দমা ও নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেছেন তিনি। বর্তমানে তার বসতঘরটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরও সংস্কার করতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মমিজল।
মমিজল উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের জারুলতলা গ্রামের মৃত সহের উদ্দিনের ছেলে। তাঁর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী নুরুন্নাহার, প্রতিবন্ধী দুই সন্তান ও মা মমেনা বেওয়া। পরিবারের জীবন-জীবিকা ও বসবাসের একমাত্র অবলম্বন ২৯ শতাংশ জমি। মমিজল জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে একই গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী অল্পনা মারাকের কাছ থেকে তিনি ২৯ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। ওই জমি ছাড়া তাঁর আর কোনো সহায়-সম্বল নেই। তাঁর অভিযোগ, একই গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুর রহিমের লোভ জাগে ওই জমির প্রতি। কারন জমিটির তিন পাশেই আব্দুর রহিমের জমি। মমিজলের দাবি, তাঁকে ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে আব্দুর রহিম প্রায় ২০ বছর ধরে মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে আসছেন। এসবের মধ্যে বিভিন্ন সময় বেশ কয়েকটি মামলায় আব্দুর রহিম পরাজিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় গ্রামে সালিশ-দরবার ও হয়েছে। সালিশে আব্দুর রহিমের কাছ থেকে ওই জমিতে না যাওয়ার বিষয়ে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছিল বলে জানান মমিজল। তবে এরপরও হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
মমিজল আরও অভিযোগ করেন, তাঁর দখলে থাকা জমির ১২ শতাংশের একটি জাল দলিল তৈরি করে তাঁকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুর রহিম। এদিকে প্রায় দুই বছর আগে কালবৈশাখী ঝড়ে মমিজলের বসতঘরটি বিধ্বস্ত হয়। মমিজল বলেন, ঘরটি সংস্কারের সামর্থ্য না থাকলেও কোনোভাবে কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন তিনি। গত এক মাস আগে বিধ্বস্ত ঘরটি সংস্কার করতে গেলে আব্দুর রহিম ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ডেকে এনে তাঁর সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন মমিজল। এরপর থেকে পরিবার নিয়ে আরও বিপাকে পড়েছেন তিনি। তবে আব্দুর রহিম বলেন, ওই জমির ১২ শতাংশ তিনি একই মালিকের কাছ থেকে সাব-কবলা দলিলমূলে কিনেছেন। তাই সেখানে তাঁর মালিকানা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে আব্দুর রহিমের দলিলের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। কারন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জমি ক্রয় করতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হয়। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সনাক্ত সাপেক্ষে। কিন্তুু এসবের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মমিজলের দাবি, তিনি প্রায় ৪০ বছর আগে যে ২৯ শতাংশ জমি কিনেছেন, এর বাইরে ওই জমিতে আব্দুর রহিমের কোনো জমি নেই। তাঁকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় মমিজল বাদী হয়ে আব্দুর রহিমসহ পাঁচজনকে আসামি করে ঝিনাইগাতী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর পরিবারকে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ করে দিতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এসআই কানাই লাল চক্রবর্তী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
The post আমারে ঘর তুইলা লেংড়া লোলা প্রতিবন্ধী পোলাডারে নিয়ে থাকতে দেন, না হয় মাইরা ফালাইন–“স্যার” appeared first on sokalerkhobor24.com.
