প্রেমিকার বিয়ে অন্যত্র ঠিক করে তাঁর পরিবার। তা নিয়ে ওই যুবতীর সঙ্গে মনোমালিন্য হয় তাঁর প্রেমিকের। দু’জনেই ঠিক করেন পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিয়ে একসঙ্গে আত্মহত্যা করবেন! যেমন ভাবা, তেমন কাজ। ওই যুগল প্রায় ১০০০ ফুট উঁচু এক পাহাড়ে ওঠেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মত বদলান প্রেমিকা। প্রেমিকা ‘ঝাঁপ’ দিলেও তিনি কিনারায় দাঁড়িয়েই ছিলেন। পরে নিজেই থানায় গিয়ে জানান, তাঁর প্রেমিকা খাদে পড়ে গিয়েছে! প্রশ্ন উঠছে, আদৌ ওই যুবতী ঝাঁপ দিয়েছিলেন না কি তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, তরন্নুম নাইক নামে বছর তেইশের এক যুবতীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন শ্রীপাদ বডর। পাঁচ বছরের বেশি সম্পর্ক। তারন্নুম গারগোটি এলাকায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। ভুদরগড তালুকের নাইকওয়াডী জলপ্রপাতের নীচে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মৃত্যুর খবর শনিবার থানায় গিয়ে নিজেই জানান শ্রীপাদ। স্থানীয়দের দাবি, আগামী ১২ নভেম্বর অন্যত্র তারন্নুমের বিয়ে ঠিক করেছিল তাঁর পরিবার।
শ্রীপাদ পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রেমিকার বিয়ে অন্যত্র ঠিক হওয়া মেনে নিতে পারেননি তিনি। সেই কারণে তাঁরা ঠিক করেন একসঙ্গে আত্মহত্যা করবেন। পরে এ-ও দাবি করেন, পাহাড়ের কিনারা থেকে তারন্নুম লাফ দিলেও শেষ মুহূর্তে সাহস হারিয়ে ফেলেন তিনি। পুলিশ সেই ঘটনার তদন্ত নামে। তদন্তের অংশ হিসেবে ওই যুগলের চ্যাট খতিয়ে দেখে পুলিশ। আর তাতেই সন্দেহ হয় তাদের।
গাধিংলজ মহকুমার পুলিশকর্তা বিবেক পাটিলের কথায়, ‘‘শ্রীপাদ আমাদের যে আত্মহত্যার তত্ত্ব দিয়েছিলেন, তা ওই যুগলের চ্যাট থেকে পাওয়ার তথ্যের সঙ্গে কোনও সঙ্গতি পাওয়া যায়নি। ওই চ্যাটগুলি থেকে জানা যায়, তারন্নুমের বিয়ে ঠিক হওয়ায় মর্মাহত ছিলেন শ্রীপাদ। এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তিও হয়। তবে কোথাও আত্মহত্যার পরিকল্পনার কথা পাওয়া যায়নি।’’ সেই তথ্যের ভিত্তিতে ওই মামলায় খুনের ধারা যুক্ত করেছে পুলিশ। রবিবার শ্রীপাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারন্নুম নিজে ঝাঁপ দেন না কি তাঁকে পাহাড়ের কিনারা থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই বিষয়টা স্পষ্ট হবে।
গারগোটি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে বনভূমি এলাকায় নাইকওয়াডী জলপ্রপাতটি। পুলিশ জানিয়েছে, বর্ষার পর জলপ্রপাতটি শুকিয়ে গিয়েছিল। শুক্রবার শ্রীপাদ এবং তারন্নুম ওই জলপ্রপাতে গিয়েছিলেন। সেই সময় সেখানে কেউ ছিলেন না। ফলে নির্জন এলাকায় ঠিক ঘটেছিল, তার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই। এই মামলার রহস্য উন্মোচন করতে ধৃতের জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছেন তদন্তকারীরা।
