পশ্চিম ইউরোপের দুই প্রভাবশালী দেশ ইতালি ও বেলজিয়ামে অর্থনৈতিক অসন্তোষ এখন এক বিশাল যুব আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ইতালির রাজধানী রোম, মিলান ও তুরিন এবং বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ও গেন্ট শহরের রাজপথে টানা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে তরুণ প্রজন্ম। ইতালিতে নো পে-কাট, নো প্রিকেরিয়াস ওয়ার্ক (অস্থায়ী ও কম বেতনের কাজের বিরুদ্ধে) এবং বেলজিয়ামে ভবিষ্যতের গ্যারান্টি চাই ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, নবীন গ্র্যাজুয়েট ও তরুণ চাকরিজীবীরা রাজপথ অবরোধ করেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান অভিযোগ, অস্বাভাবিক আবাসন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও তরুণদের শিক্ষানবিস বা প্রবেশপর্যায়ের চাকরির বেতন প্রায় স্থবির হয়ে আছে। চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী চাকরির রাজত্ব চলায় তরুণদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থায়ী ভবিষ্যৎ গঠনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদর দপ্তরের সামনে হাজারো শিক্ষার্থী অবস্থান নিলে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে, যার ফলে বেশ কয়েকজন তরুণ আন্দোলনকারী আহত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইতালি ও বেলজিয়ামের এই তরুণ বিক্ষোভ মূলত সমগ্র ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অর্থনৈতিক স্থবিরতারই অংশ। ইতালিতে যুব বেকারত্বের হার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানো এবং বেলজিয়ামে সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে শিক্ষা ও যুব কর্মসংস্থান খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়া এই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংগঠিত এই আন্দোলন এখন দুই দেশের সরকারের জন্যই এক বড় রাজনৈতিক মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র ফাঁকা আশ্বাস বা সাময়িক ভাতা নয়, স্থায়ী কর্মসংস্থান, সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা এবং জীবনযাত্রার সংকট নিরসনে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদী নীতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত ইউরোপের বুকজুড়ে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
