Published on
:
2 min read
দুর্গাপুজোর রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই চলছে কালীর আবাহনে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে বারাসতে। টাকি রোড লাগোয়া শিমুলতলার শ্রীকৃষ্ণপুর সাংস্কৃতিক চক্রের পুজো এ বার পা দিচ্ছে ৫০ বছরে। সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে অভিনব থিমের পরিকল্পনা করেছেন উদ্যোক্তারা। নেপথ্যে রাষ্ট্রপতি পুরষ্কারপ্রাপ্ত শিল্পী ভবতোষ সুতার। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলেন সেই থিম প্রকাশ করল পুজো কমিটি।
শিমুলতলার শ্রীকৃষ্ণপুর সাংস্কৃতিক চক্রের থিম ‘অতল অনন্তম শক্তি বন্দনা’। ‘অতল’ ও ‘অনন্ত’। যার কোনও শেষ নেই, যার কোনও তল নেই — এই দুই ধারণাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে মণ্ডপ। বিশাল পর্দায় দেখানো হবে ভিডিয়ো, সঙ্গে বিশেষ আলোকসজ্জা। পুরোটাই লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের খেলা।
তবে মূল আকর্ষণ হতে চলেছে অভিনব সাউন্ড অর্কেস্ট্রা। বিশেষ ভাবে সাজানো ড্রামের উপর ফেলা হবে জলের ফোঁটা। তাতে যে শব্দ তৈরি হবে, সেই ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্দায় ফুটে উঠবে শিবের নৃত্য। শব্দ, আলো ও দৃশ্যের এই সমন্বয় দর্শকদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলে আশা শিল্পী ভবতোষ সুতারের।
মণ্ডপের বাইরের অংশে থাকছে মিউজ়িয়ামের আদল। একটা অন্য রকমের আবহ তৈরি করা হবে। তবে মূল চমক অপেক্ষা করবে মণ্ডপের ভিতরে। দর্শকরা শুধু চোখে দেখবেন না, শব্দ ও পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুভব করবেন মণ্ডপ ও প্রতিমা —এমনই পরিকল্পনা ভবতোষের। তাঁর কথায়, ‘পুজো শুধুমাত্র পেশা নয়, আবেগও।’
এই পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিজেপি নেতা সুবীর শীল। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল। তাই এ বার বারাসতের অন্যতম বৃহৎ পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে।’ আমন্ত্রিতদের তালিকাতেও চমক থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মণ্ডপের ভিতরে একসঙ্গে প্রায় ৪০০ জন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। কলোনি মোড় থেকে পুজোমণ্ডপ পর্যন্ত থাকছে আলোকসজ্জা ও তোরণ। তবে বাজেটের প্রতিযোগিতা তাঁরা চান না বলেই জানিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। চাঁদা আর অনুদানেই পুজো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিটির।
