সুন্দরবনের পাশেই লোকালয়। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন নদীতে ছুটতে হয় জেলেদের, বনের ওপর নির্ভর করে চলে অনেকের সংসার। এমন জনপদের কাছেই মিলেছে বাঘের তাজা পায়ের ছাপ। এ ঘটনায় বাগেরহাটের শরণখোলার সোনাতলা গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। বাঘটি বনে ফিরে গেলেও নিরাপত্তার শঙ্কা কাটছে না বাসিন্দাদের। গতকাল সোমবার সকাল নয়টার দিকে সোনাতলা বেড়িবাঁধের চরে প্রথম বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান জেলে পরিবারের সদস্য মো. শিমুল হাওলাদার। তিনি বিষয়টি স্থানীয় বাঘ রক্ষাকারী দলের সদস্য মো. আব্দুল লতিফ হাওলাদারকে জানান। পরে খবর দেওয়া হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ড টিমের প্রতিনিধি মো. আলম হাওলাদার ও শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলামকে।
খবর পেয়ে বন বিভাগ, কমিউনিটি প্যাট্রল গ্রুপ (সিপিজি) ও ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধান করেন। প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঘের তাজা পায়ের ছাপ পাওয়া যায়। ছাপ পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ করে বন বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন, বাঘটি সুন্দরবনের গভীর বনে ফিরে গেছে।
তবে বাঘ বনে ফিরে গেলেও স্বস্তি ফিরছে না গ্রামবাসীর মনে। বিশেষ করে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি। কারণ, জীবিকার তাগিতে তাদের নদী ও বনের কাছাকাছি যেতে হয়। ফলে যে কোনো সময় বাঘের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা তাদের পিছু ছাড়ছে না।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করতে মাইকিং এবং বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ওয়াইল্ড টিম, সিপিজি ও ভিটিআরটি সদস্যদের টহল জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন এসিএফ শরিফুল ইসলাম।
এদিকে, বনসংলগ্ন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুন্দরবনের সীমানায় উপযুক্ত স্থানে নাইলনের বেড়া নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, বাঘ সংরক্ষণের পাশাপাশি বন ও নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
