ম্যাচের পর বাংলা ক্রিকেটাররা একে একে বেরিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ফ্লাইটে দল দিল্লি যাবে। মহম্মদ শামি কল্যাণীতে থেকে গেলেন। এখান থেকে সরাসরি এয়ারপোর্ট যাবেন। সেখান থেকে টিমের সঙ্গে দিল্লি।
দুই ইনিংস মিলিয়ে পাঁচ উইকেট। প্রত্যাবর্তনের লড়াইটা এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন শামি। জানেন না সুযোগ আর আসবে কি না! তবে ওসব নিয়ে এখন ভাবেন না শামি। বরং মন দিয়েছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির দিকে। একটা সময় কলকাতায় শামির পাকাপাকি ঠিকানা ছিল। এখন তা বদেলেছে। নিজের গ্রাম সহসপুরেই থাকেন। তৈরি করছেন আরও এক ফার্ম হাউস। প্রায় চোদ্দো একরের উপর সুবিশাল ফার্ম হাউসের পুনর্নিমাণের কাজ চলছে। সামনের দিকে থাকবে নিজস্ব অফিস। প্রায় দু’শো গাড়ির পার্কিংয়ের জায়গা থাকছে। সঙ্গে রয়েছে বিশাল এক মাঠ। যেখানে রয়েছে ছ’টা আলাদা ধরনের উইকেট। অস্ট্রেলিয়া থেকে বিশেষ মেশিন আনিয়েছেন। মাঠ পরিচর্যার কাজ শামি নিজেই করেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনও খেলা না থাকলে এখানে প্র্যাকটিস করেন তিনি। শুধু নিজে নয়, ভাবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির কাজও শুরু করে দিয়েছেন। শামি সহসপুরে থাকলে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ থেকে অনেক জুনিয়র ক্রিকেটার চলে আসেন। তারপর তাঁদের নিয়ে আলাদা করে ট্রেনিং করান শামি। ভারতীয় পেসার বলছিলেন, “কোনও অ্যাকাডেমি করার পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে আমি যদি সহসপুরে থাকি, তাহলে দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ থেকে অনেক ক্রিকেটার চলে আসে। আমি ওদের ট্রেনিং করাই। কীভাবে আরও উন্নতি করা যাবে, সে’সব বলে দিই। প্লেয়ারদের ভুলভ্রান্তি শুধরে দিই। ক্রিকেট আমাকে সবকিছু দিয়েছে। আজ আমি যা কিছু হয়েছি, আমার যা পরিচিতি সব ক্রিকেটের জন্যই। ক্রিকেটকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া আমার কর্তব্য। আমি সহসপুরে থাকলে ওরা ঠিক বুঝে যায়। তখন আমার কাছে চলে আসে।”
এদিনও যেমন কল্যাণীতে শামির কাছে পরামর্শ নিয়ে গেলেন দিল্লির পেসাররা। যার মধ্যে নভদীপ সাইনিও ছিলেন। এতক্ষণ তো বলা হয়নি আরও একটা জিনিস। শামি মাঠে নেমে বিপক্ষ ব্যাটিংকে ধ্বংস করে দিতেন, সেটা সবার জানা। কিন্তু তিনি যে দারুণ ছবি আঁকতে পারেন, কে জানত? এত দিন পর জানা গেল, ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার শখ শামির। কিন্তু টানা ভারতীয় দলে খেলার সময় ছবি আঁকার তেমন সুযোগ পেতেন না। এখন অবশ্য বাড়িতে দিনে ঘণ্টা দু’য়েক আলাদা করে সময় বের করে শুধু ছবি আঁকার জন্য। কল্যাণীতে বসেই নিজের আঁকা ছবিগুলো দেখাচ্ছিলেন ভারতীয় পেসার।
জানা নেই, শামির সৃষ্টিশীলতার নতুন দিক ভবিষ্যতে তাঁর সামনে নয়া দিগন্ত খুলে দেবে কি না? জানা নেই, ভবিষ্যতে তিনি খেলাতেই থাকবেন নাকি ছবির পৃথিবীতেও নাম লেখাবেন পাকাপাকি ভাবে? তবে এটুকু নিশ্চিত, মহম্মদ শামির ভবিষ্যৎ কোনও অজিত আগরকররা আর ঠিক করবেন না। কারও অঙ্গুলিহেলনে চলবে না তাঁর ভাগ্য। বাংলা পেসারের সৃষ্টিশীলতা ঠিকই খুঁজে নেবে কোনও না কোনও প্রবাহ-মুখ। হয় ক্রিকেটে, নইলে ছবিতে। আদ্যোপান্ত সৃষ্টিশীল মানুষকে কি কখনও দমিয়ে রাখা যায়?
