‘কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় জানতে লাগবে ৪ সপ্তাহ’
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ। ছবি: খবরের কাগজ
-->কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল।
তিনি বলেন, ‘ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে প্রিয়জনের মরদেহ বুঝে পেতে পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।’
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে তিনি এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন
এর আগে রোববার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা ১০টি মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় নমুনাগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, ‘শুধু মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা করেই পরিচয় নিশ্চিত করা হবে না। নিহতদের বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা সন্তানের মতো নিকটাত্মীয়দের নমুনার সঙ্গে সেগুলো মিলিয়ে দেখা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ বলেন, ‘পরীক্ষার জন্য নমুনাগুলো ঢাকার মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
রিমন ঘোষ আরও বলেন, ‘মরদেহগুলো থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ রিপনের পরিবারের ছয় সদস্য।
রিপন জানান, তার পরিবারের চার সদস্য ইতোমধ্যে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে নমুনা দিয়েছেন। দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা শেষ করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহের অপেক্ষায় দুই দিন ধরে কক্সবাজারে রয়েছেন তার স্বামী ফয়সাল দেওয়ান।
তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে পরিচয় শনাক্তে প্রায় এক মাস লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা।
ফয়সাল দেওয়ান বলেন, ‘আমি জানি, আমার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু আমি চাই না, আর কোনো স্বামীকে এভাবে তার স্ত্রীকে হারাতে হোক, আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজতে হাসপাতালে ছুটতে হোক।’
গত ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের কমিটি কাজ করছে।
তারেকুর রহমান/রিফাত/
আরও পড়ুন
হবিগঞ্জে অবৈধ বাণিজ্য মেলার আয়োজন, ৫ জনের কারাদণ্ড
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সরকারি কলেজের সামনে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বাণিজ্য মেলা পরিচালনার অভিযোগে পাঁচজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আনোয়ার।
তিনি জানান, সরকারি আদেশ অমান্য করে বাণিজ্য মেলা পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে এর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। এরপরও মেলা পরিচালনার চেষ্টা করায় সোমবার অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আরও পড়ুন
অভিযানকালে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে নির্মিত বিভিন্ন প্রবেশদ্বার, স্টল ও দোকানের অবকাঠামো অপসারণ করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
কাজল সরকার/রিফাত/
আরও পড়ুন
লালপুরে পদ্মায় ডুবে কিশোরের মৃত্যু
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
ছবি: প্রতীকী
-->নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে তামিম (১২) নামের কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বিলমারিয়া বাজারের পাশে পদ্মা নদীর ঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তামিম লালপুর উপজেলার বিরোপাড়া এলাকার মিঠনের ছেলে।
আরও পড়ুন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তামিম বিলমারিয়া বাজারের পাশে তার খালুর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। দুপুরে খালাতো ভাইদের সঙ্গে পদ্মা নদীর ঘাটে গোসল করতে যায় সে। একপর্যায়ে অন্য কিশোরদের দেখাদেখি তামিমও নদীর ঘাট থেকে লাফ দিয়ে পানিতে ডুব দেয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সে আর পানির ওপরে ভেসে ওঠেনি।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তার খালাতো ভাই ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। বেশ কিছুক্ষ পর তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।
কামাল মৃধা/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
মতলব উত্তরে সাবেক যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চাঁদপুরে মতলব উত্তর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিয়মিত ও প্রতারণা মামলায় সাবেক এক যুবলীগ নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) চাঁদপুর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব ও মতলব উত্তর থানার ওসি মানস বড়ুয়ার তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- যুবলীগ নেতা মো. মনির হোসেন (৪৫)ও মো. আলামিন সানা (৩৬)।
আরও পড়ুন
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মানস বড়ুয়া জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সাহাদাত হোসেন/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
ময়মনসিংহে মণ্ডপে মণ্ডপে কুমারী পূজা, ভক্ত-পূজারীদের ভিড়
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
অষ্টমীর দিনে কুমারী পূজাকে ঘিরে জমজমাট হয়ে ওঠে ময়মনসিংহ শহরের রামকৃষ্ণ মিশন মন্দির ছবি: খবরের কাগজ
-->ময়মনসিংহের রামকৃষ্ণ মিশন মন্দিরে কুমারী পূজা শুরু হওয়ার কথা দুপুরে, অথচ সকাল থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের জনস্রোতে রূপ নেয় পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্যান্ডেল পূর্ণ হয়ে চলাচলের পথও বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ নগরের রামকৃষ্ণ মিশন মন্দিরে দেখা যায় এমন দৃশ্য। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমীতে কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। শুধু রামকৃষ্ণ মিশন নয়, নগরের দুর্গাবাড়ি মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপেও ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শিখা রানী বলে সকাল থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেছি। ‘দুর্গাপূজা মানেই অন্য রকম আনন্দ। সকালে বাবা-মা ও ভাইকে নিয়ে বের হয়েছি। অষ্টমী পূজা শেষে এখানে এসেছি কুমারী পূজা দেখতে। পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকতে পারায় আনন্দটা আরও বেশি।’
আরও পড়ুন
দুপুর ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এবার দেবী দুর্গার কুমারীরূপে সাজানো হয় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি দেন। এ সময় মন্দিরজুড়ে ছিল ভক্তদের প্রার্থনা, শঙ্খধ্বনি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা।
কুমারী পূজা দেখতে আসা আরেক দর্শনার্থী অর্পিতা দাস বলেন, ‘এখানে এলে পূজার আনন্দের পাশাপাশি একধরনের মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়। এত মানুষের একসঙ্গে প্রার্থনা আর ভক্তি প্রকাশের দৃশ্য সত্যিই ভালো লাগে।’
চন্দন দাস বলেন, ‘মহাষ্টমী দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ভিড়। ঢাকের আওয়াজ আর ধুনুচির গন্ধে চারপাশ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। মা দুর্গার আশীর্বাদে সবার জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক। সব অশুভ শক্তির বিনাশ হোক।’
ময়মনসিংহ জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৮০৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ নগরেই রয়েছে ৯০টি মন্দিরে পূজার আয়োজন।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর সাহা বলেন, ‘এবার খুবই উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। মহাষ্টমীর পূজাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের মন্দিরগুলোতে চলছে ভক্তদের আনাগোনা। ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা আর মানুষের মিলনমেলায় নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শারদীয় উৎসবের আবহ।’
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, 'পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। আশা করছি, বিসর্জন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।’
কামরুজ্জামান মিন্টু/অলি/
