বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তি পারস্পরিক সম্মতিতে জিনায় লিপ্ত হলে শরিয়তে তাদের জন্য পৃথক শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এ শাস্তি কার্যকরের অধিকার কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নেই; এটি ইসলামী সরকার ও বিচার বিভাগের এখতিয়ার। শরিয়তসম্মত সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হলেই নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন আসে।
সম্প্রতি বিবাহিত ব্যক্তির সঙ্গে কোনো অবিবাহিত ব্যক্তি জিনায় লিপ্ত হলে তার শাস্তি কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ঢাকার মুহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম।
বিবাহিত ও অবিবাহিতের শাস্তি
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, বিবাহিত ও অবিবাহিত দুজন পারস্পরিক সম্মতিতে জিনায় লিপ্ত হলে এবং শরিয়তসম্মত সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হলে, বিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রজম (পাথর ছুড়ে মারা) এবং অবিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১০০ বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ফিকহি গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে একজনের বৈবাহিক অবস্থার কারণে অন্যজনের জন্য নির্ধারিত শাস্তি পরিবর্তিত হবে না। বরং প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব অবস্থা অনুযায়ী বিধান প্রযোজ্য হবে বলে ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শাস্তি কার্যকরের অধিকার কার?
ফতোয়ায় স্পষ্ট করা হয়েছে, জিনার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে শরিয়ত নির্ধারিত হদ কার্যকর করার অধিকার ইসলামী সরকার ও বিচার বিভাগের। কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা সাধারণ মানুষ নিজের উদ্যোগে এ ধরনের শাস্তি কার্যকর করতে পারবেন না। বাংলাদেশের বর্তমান বিচারব্যবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের শাস্তি কার্যকরের সুযোগ নেই বলেও উত্তরে উল্লেখ করা হয়েছে।
তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব
ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, জিনা গুরুতর গুনাহ। এ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আন্তরিকভাবে তওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। গুনাহ থেকে ফিরে এসে অনুতপ্ত হওয়া ও ক্ষমা চাওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ১১০ নম্বর আয়াত এবং ‘মিশকাতুল মাসাবিহ’ গ্রন্থে বর্ণিত তওবাসংক্রান্ত হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে।