শুক্রবারও পার্টি অফিসে এসে বসেছিলেন সিপিএম কর্মীরা। শনিবার সকালে দেখা গেল, সেই অফিসই লণ্ডভণ্ড। ভাঙচুর করা হয় টিভি, আলমারি, সুইচবোর্ড, টেবিল, চেয়ার। এমনকী কার্যালয়ের চারটি ফ্যানও খুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানার তালদি এলাকায় সিপিএমের পার্টি অফিসে ঘটনাটি ঘটে। বামেদের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে আরএসএস ও বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা জড়িত। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি ও আরএসএস।
গত কয়েকদিনে রাজ্যজুড়ে সিপিএমের একাধিক পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুজোর মধ্যে বামেদের বুক স্টলগুলিতেও হামলা হয়েছে। এবার ক্যানিংয়ের পার্টি অফিসকে ‘টার্গেট’ করল দুষ্কৃতীরা। শনিবার সকালে ওই পার্টি অফিসে আসেন দলের কর্মীরা। তাঁরা দেখেন, গোটা পার্টি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তাঙা ভেঙে ভিতরে ঢুকে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে চেয়ার-টেবিল। টিভি, আলমারি, সুইচবোর্ডের উপরও ভাঙচুর চলেছে। খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ফ্যান। দলীয় পতাকা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়। পতাকা তোলার স্ট্যান্ড ভেঙে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। এই নিয়ে তালদি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
সিপিএমের এক নেতার অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে হামলার হুমকি মিলছিল। সিপিএম নেতা তথা এরিয়া কমিটির সদস্য প্রিয়ব্রত ঘোষ বলেন, “আমাদের পার্টি অফিস ভাঙবে বলে আরএসএসের ছেলেরা ঘোরাঘুরি করছিল। পুলিশ তদন্ত করলে সমস্ত সঠিক তথ্য উদ্ধার হবে।” অন্যদিকে এমন ঘটনায় সিপিএমের দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি নেতা সঞ্জয় নায়েক জানান, “সিপিএম নিজেদের পার্টি অফিস নিজেরাই ভেঙেছে। অহেতুক অপরকে দোষারোপ করে প্রচারের আলোয় আসতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও ককরোচ পার্টির সঙ্গে হাত মিলিয়ে অস্থিরতা তৈরি করছে সিপিএম। রাজনৈতিকভাবে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। যেটা কখনই সম্ভব নয়।”
