নুরুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ- গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মেসার্স আঙ্গুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল্লাহ আল মুসাইয়ুব পিয়াসের ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সার ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, উপযুক্ত গুদাম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকার শর্ত যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাঁকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পিয়াসের নামে আগে থেকে দৃশ্যমান কোনো সারের দোকান বা উপযুক্ত গুদাম ছিল না। তিনি ঢাকায় পড়াশোনা করেন। এমন পরিস্থিতিতে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যবসায়িক যোগ্যতা, গুদাম সুবিধা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাহাপাড়া ইউনিয়নের তুলসীঘাট বাজারের গোডাউন রোডে পিয়াসের বাবার বাড়ি। অভিযোগ রয়েছে, বাড়ির দুটি কক্ষ গুদাম হিসেবে দেখিয়ে ডিলারশিপের জন্য আবেদন করা হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর বাড়ির সামনে নতুন করে গুদামঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া পিয়াসের নামে বৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান না থাকা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ অবস্থায় আবেদনকারীদের যোগ্যতা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব, গুদামের উপযুক্ততা এবং দাখিল করা কাগজপত্র কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, তা নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সার ব্যবসায়ী বলেন, তিনি দুই বছরের বেশি সময় ধরে সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবসা করছেন। নিয়ম মেনে ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেও তিনি নিয়োগ পাননি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা ও কাগজপত্র পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে পিয়াসের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে তাঁর বাবা মো. আঙ্গুর প্রধান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের কারও আগের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নেই। তাঁর ছেলে ঢাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসা করেন। বাড়ির দুটি কক্ষ গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্রয়োজন বিবেচনায় আরও ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
সাহাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিকাশ চন্দ্র বলেন, যাঁর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, যিনি আগে ব্যবসা করেননি এবং যাঁর ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নেই, তিনি কীভাবে সার ডিলারশিপ পেলেন, তা দুঃখজনক। তিনি এ নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ডিলার নিয়োগের যাচাই-বাছাই কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে।

