বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি এবং যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ১৩ কোটি টাকার শুল্ক-কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চলছে। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট কত টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, তা নিরূপণের কাজও চলমান রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, চীন ও ভারত থেকে বন্ড ও এফওসি সুবিধায় তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৩৭ টন কাঁচামাল আমদানি করেছে উইলিয়ামস সোয়েটার্স। এসব কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, আমদানি করা এসব কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত শর্তে রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এ সুবিধার অপব্যবহার করা হলে সরকার রাজস্ব হারায়।
সরেজমিন অনুসন্ধানে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বন্ড রেজিস্টারে উল্লেখিত স্থানে আমদানি করা পণ্য পাননি বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত তথ্য দিতে না পারা এবং আমদানি করা কাঁচামালের প্রকৃত অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ার মতো অসংগতি পাওয়া গেছে।
কাঁচামালের পাশাপাশি ৫২৫টি মেশিনারিজ আমদানির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে।কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে কথিত অনিয়মের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মোট রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ, অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ সম্পর্কে জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
