Published on
:
2 min read
এই সময়, বারাসত: সোমবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতির অফিস ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার তৃণমূল পরিচালিত সেই জেলা পরিষদকে ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে দেখা গেল বিজেপির দুই শিবিরের কর্মীদের। শুধু তাই নয়, জেলা পরিষদ নিয়ে বিজেপির দুই শিবিরের অবস্থান ও সুরও ভিন্ন। এক পক্ষে ছিল ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার গেরুয়া বাহিনী অন্য পক্ষ বারাসতের। একপক্ষের দাবি, কাজ না পারলে সভাধিপতির পদ ছাড়ুন। অন্যপক্ষের পাল্টা বার্তা, সরকারি অফিসে অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।
এ দিন একই দলের পরস্পর বিরোধী অবস্থান ঘিরে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের জল্পনা তীব্র হলো বলেই মত অনেকের। সোমবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামীরঅফিসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতৃত্ব জেলা পরিষদে এসে সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামীর কাছে উন্নয়নের হিসাব চাইতে আসেন। তাঁদের অভিযোগ, কাজ থমকে রয়েছে। কাজ করতে না পারলে সভাধিপতিকে পদত্যাগ করতে হবে।
এই প্রসঙ্গে ব্যারাকপুরের বিজেপি কর্মী মিঠু চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, 'সোমবারের ভাঙচুরের ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল। উনি কাজ করতে না পারলে পদত্যগ করুন।' তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদ এবং সভাধিপতিকে নিয়ে ব্যারাকপুরের গেরুয়া বাহিনীর অবস্থানের মধ্যেই পাল্টা সুর বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপি কর্মীদের। জেলা পরিষদ চত্বরে অশান্তির আশঙ্কা ঘিরে সেখানে জমায়েত করেন বারাসতের বিজেপি নেতৃত্বও। তাঁদের বক্তব্য, জেলা সদর শহরের ঐতিহ্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। সরকারি দপ্তরে বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবে না।
এই প্রসঙ্গে বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, 'কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার দলীয় নির্দেশ নেই। এই বিষয়টি নিয়ে বিজেপির মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, এটা সংবাদমাধ্যমের তৈরি করা।' বারাসতের বিজেপি নেতা রাজা সাহানির বক্তব্য, 'বারাসত জেলা সদরের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। তৃণমূলের লোকজন এসে আমাদের সরকারকে কলঙ্কিত করতে চাইছে।'
জেলা পরিষদ নিয়ে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর ঠান্ডা লড়াইয়ের জেরে এদিন কার্যত শিকেয় ওঠে সরকারি অফিসের কাজ। কর্মীদের কেউ কেউ আতঙ্কে অফিসের ভিতরে কার্যত লুকিয়ে থাকেন। ফলে, এ দিন অঘোষিত বন্ধের চেহারা নেই অফিস। সোমবারের ঘটনার পর সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বারাসত পুলিশ জেলার সুপারকে নিরাপত্তার আর্জি জানিয়েছেন। নারায়ণ বলেন, 'এর আগে দু'বার এমন ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই পুলিশ সুপারকে আমার নিরাপত্তা বাড়ানোর অনুরোধ করেছি।'