ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে পূর্ণ অবরোধের প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হেবরনের কাছে গুলির ঘটনায় পাঁচজন আহত হওয়ার পর ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন। এরপরই এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, হেবরন শহরে অবিলম্বে অবরোধ আরোপ এবং পুরো পশ্চিম তীরে পূর্ণ অবরোধ কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অবরোধ কত দিন স্থায়ী হবে, তা জানানো হয়নি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হেবরনের কাছে গুলির ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের কাছে একটি এম১৬ রাইফেল ও একটি পিস্তল ছিল বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
ঘটনার পর জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। তিনি হামাসকে দায়ী করে দাবি করেন, সংগঠনটি ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এ ঘটনা ও অবরোধের নির্দেশ দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনিদের চলাচলে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ পশ্চিম তীরে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন করে পূর্ণ অবরোধ কার্যকর হলে ফিলিস্তিনিদের চলাচল, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনে আরও প্রভাব পড়তে পারে।
The post পশ্চিম তীরে ২ ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর ‘ফুল লকডাউন’ ঘোষণা নেতানিয়াহুর appeared first on ভোরের চেতনা.
