কালবেলা · আন্তর্জাতিক
ইন্দোনেশিয়ায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত ৩ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ
২৩/১০/২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বন ও ভূমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের ধোঁয়ার কারণে দেশটিতে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭০ জন। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক থান সুয়ান্তি বলেন, প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বুধবারও নতুন করে ৪ হাজার ৫২২ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারা।
সর্বশেষ বায়ুমান সূচকে দেখা গেছে, দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে বাতাসের মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ছয়টি প্রদেশে। এগুলো হলো রিয়াউ, জাম্বি, দক্ষিণ সুমাত্রা, পশ্চিম কালিমান্তান, দক্ষিণ কালিমান্তান ও মধ্য কালিমান্তান।
সুয়ান্তি বলেন, দাবানলের ধোঁয়ায় অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা পিএম২.৫, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান থাকে। এসব উপাদানের সংস্পর্শে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, হাঁপানি, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ এবং চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশেও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এদিকে বন ও ভূমিতে বারবার আগুন লাগার ঘটনায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর দায় থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, এসব ঘটনায় বিদেশি কোম্পানির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রেসিডেন্ট বলেন, কিছু কোম্পানি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন ও ভূমি ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু তাদের কয়েকটি তিন, চার, এমনকি ১২ বার পর্যন্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। কোনো কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে ১৯ বার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো কোম্পানি দুবার নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের অনুমতি বাতিল করা উচিত। বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ব্যবসার অনুমতি বাতিল করা হতে পারে। বাতিল হওয়া জমি ব্যবহারের অধিকার তরুণ ইন্দোনেশীয়দের দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী সামারিন্দায় হাজারো শিক্ষার্থী ও অন্যান্য মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বন ও ভূমিতে আগুন লাগার ঘটনাকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করার দাবিতে তারা এ বিক্ষোভ করেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আইনিউজ।
ইন্দোনেশিয়ায় এবার অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক আবহাওয়া চলছে। এল নিনোর প্রভাবেও দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু
মূল প্রতিবেদনে যান ↗