নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বিদেশি পিস্তল, হেরোইন ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
গ্রেপ্তাররা হলেন- নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার বড় বাট্টা এলাকার মৃত ইদ্রিস ও মরিয়মের ছেলে এমদাদুল হক (২৭) এবং মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানার বাঁশবাড়ী এলাকার মো. শাহিন ও পলির ছেলে মো. জিহাদ (২৪)। এমদাদুল বর্তমানে ফতুল্লার মাসদাইর বাজার এলাকায় চশমাওয়ালার বাড়িতে এবং জিহাদ চানমারী বস্তিতে বসবাস করেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে সদর থানা এলাকায় মোটরসাইকেলে টহল দেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুই নম্বর রেলগেটসংলগ্ন মনির রেস্তোরাঁর উত্তর পাশে সাজ্জাদ ট্রেডার্সের সামনের খালি জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে এমদাদুল ও জিহাদকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ৫০ পুরিয়া হেরোইন ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হেরোইনের ওজন পাঁচ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ হাজার টাকা। পিস্তলটির গায়ে ইংরেজিতে ‘Spccial MADE IN USA’ লেখা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজন নারায়ণগঞ্জ সদর ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে এর আগে ফতুল্লা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে জিহাদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৯ মে ফতুল্লা থানায় মাদক আইনে একটি মামলা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন জেলা থেকে রাতে নারায়ণগঞ্জে আসা যাত্রীরা গাড়ি থেকে নামার পর ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা তাদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। এ ধরনের একটি চক্রের দুই সদস্যকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। শহর ও আশপাশের এলাকায় আরও পাঁচ থেকে ছয়টি ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।’
এ সময় সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জে সাহেব আলীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
