সংবাদ সংস্থা মুম্বই: আট ও নয়ের দশকে বলিউডে একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দেওয়া কিংবদন্তি পরিচালক সুভাষ ঘাই —যিনি ‘খালনায়ক’, ‘হিরো’, ‘পরদেশ’ ও ‘তাল’-এর মতো কালজয়ী ছবি পরিচালনা করেছেন, সম্প্রতি বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রবীণ পরিচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, আজকের দিনে শিল্প বা অভিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রাধান্য পায় ব্যবসা ও অর্থ।
সুভাষ ঘাইয়ের মতে, তাঁদের সময়ে অভিনেতারা নিজেদের প্রকৃত 'শিল্পী' হিসেবে দেখতে ভালবাসতেন এবং বিশ্বাস করতেন যে ভাল কাজ করলে টাকা আপনিই আসবে। পরিচালক জানান, "সেসময় কেউ টাকার জন্য বসে থাকত না। তারা পরিচালক, গল্প এবং চরিত্র দেখেই ছবি সই করত। আমার ছবির বেশিরভাগ তারকারাই মাত্র ৪০ শতাংশ পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করতে রাজি হতেন, কারণ তাঁরা চরিত্র এবং গল্পের প্রতি আগ্রহী ছিলেন।"
আজকের বলিউড ইন্ডাস্ট্রির কার্যপদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করে সুভাষ ঘাই আরও বলেন, বর্তমানের কোনও অভিনেতাকে যদি পারিশ্রমিকের মাত্র ৪০ শতাংশ নিতে বলা হয়, তবে তাঁদের চারজন ম্যানেজার এবং তিনজন পিআর একসঙ্গে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন।
তাঁর কথায়, "আজকের দিনে শুধু সিনেমা ছাড়াও উপার্জনের আরও অনেক পথ রয়েছে। কিন্তু এগুলো সবকটিই ক্ষণস্থায়ী। ৩-৪ বছর পর সেই উন্মাদনা আর থাকে না। তারপর তারা ছবি থেকে হারিয়ে যায় এবং অন্য কেউ তাদের জায়গা নিয়ে নেয়।"
সুভাষ ঘাইয়ের এই বক্তব্যের সঙ্গে যেন সুর মিলিয়েছেন সলমন খান-ও। জনপ্রিয় টক শো 'কফি উইথ করণ'-এর একটি পর্বে এই প্রসঙ্গটি উঠেছিল। পরিচালক করণ জোহর উল্লেখ করেন যে, ২০২৬ সালেও অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগণ, শাহরুখ খান এবং সলমন খানের মতো প্রবীণ ও প্রতিষ্ঠিত তারকারাই বক্স অফিসে বড় সাফল্য এনে দিচ্ছেন। এটি প্রমাণ করে যে তাঁদের প্রজন্ম আজও কতটা প্রাসঙ্গিক।
করণের এই মন্তব্যের জবাবে সলমন খান বলেন, “আমরা (আমাদের প্রজন্ম) কাজের প্রতি সত্যিই আগ্রহী। আমরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভাল কাজ করতে চাই। কখনও সেটা সফল হয়, কখনও হয় না।”
পাশাপাশি, পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বসে দেখা যায় এমন পরিচ্ছন্ন এবং পারিবারিক ছবি তৈরির ক্ষেত্রে স্পষ্ট সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন ‘ভাইজান’।
