প্রতীকী ছবি।ছবি সৌজন্যে: iStock
Published on
:
2 min read
সপ্তাহের শুরুতেই পতনের কবলে দেশের শেয়ার বাজার। দুই প্রধান ইনডেক্স, মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ ইনডেক্সগুলিও কমেছে ১ শতাংশেরও বেশি। নিফটি৫০ ২৩০০০-এর নীচে নেমে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দুর্বল পরিস্থিতির ছোঁয়াতেই শেয়ার গ্রাফের রং হয়েছে লাল। জ্বালানি তেলের দামও এ দিন চড়েছে।
সোমবারের ট্রেডিংয়ে সেনসেক্স নেমেছিল ১০০০ পয়েন্টের বেশি। তবে বাজার বন্ধের সময় সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। দিনের শেষে ৮৭৬ পয়েন্ট বা ১.১৭ শতাংশ কমে সেনসেক্স রয়েছে ৭৩,৮৫৩ পয়েন্টে। অন্য দিকে ১.১১ শতাংশ বা ২৫৭ পয়েন্ট কমে নিফটি৫০ রয়েছে ২২,৮৮৮ পয়েন্টে। এর জেরে বিএসই লিস্টেড সংস্থাগুলির মার্কেট ক্যাপ ৪ লক্ষ কোটি টাকা।
সেক্টরাল ইনডেক্সগুলির মধ্যে কেবল নিফটি পিএসইউ ব্যাঙ্ক সেক্টরাল ইনডেক্সের বৃদ্ধি হয়েছে ২.৪৬ শতাংশ। আর সবথেকে বড় অঙ্কের পতন হয়েছে নিফটি প্রাইভেট ব্যাঙ্কে (-১.৮৫%)। এ ছাড়াও বাকি সমস্ত সূচক ডাউন রয়েছে।
১. চড়া অপরিশোধিত তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। সোমবার কিছুটা দাম কমলেও তা বাজারের উদ্বেগ কাটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানির দাম চড়া থাকায় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে। এর ফলে সুদের হার বেশি দিন উঁচুতে থাকতে পারে। তাতে অর্থনীতির বৃদ্ধি এবং সংস্থাগুলির মুনাফা—দু’টির উপরেই চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২. বেসরকারি ব্যাঙ্কের শেয়ারে বড় পতন
দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফল প্রকাশের পর একাধিক বড় বেসরকারি ব্যাঙ্কের শেয়ারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক এবং ইয়েস ব্যাঙ্কের শেয়ারের দর এক পর্যায়ে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এর জেরে নিফটি প্রাইভেট ব্যাঙ্ক সূচক প্রায় ২ শতাংশ নেমেছে। নিফটি ব্যাঙ্ক সূচকও কমেছে ১ শতাংশ।
রেলিগেয়ার ব্রোকিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অজিত মিশ্রের মতে, ব্যাঙ্কগুলির ফলাফল নিয়ে প্রত্যাশা বেশি ছিল। কিন্তু ফলাফলে সব দিক থেকে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো ছবি দেখা যায়নি। সেই কারণেই বাজারের মনোভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির শেয়ারে তুলনামূলক শক্তিশালী প্রবণতা রয়েছে।
৩. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি
ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টাকা তুলে নেওয়াও পতনের অন্যতম কারণ। NSDL-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে এখনও পর্যন্ত বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI) ভারতীয় শেয়ার বাজারে প্রায় ৫২,১০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। ২০২৬ সালের শুরু থেকে তাঁদের মোট বিক্রির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ১২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। বিদেশি পুঁজির এই ধারাবাহিক বহির্গমন বাজারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে।
