সমকামী সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন যুবক। সেই টানাপোড়নে খুনের অভিযোগ উঠল পরিচিত যুবকের বিরুদ্ধে। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে আদালতে তুলেছে পুলিশ।
মৃত যুবকের নাম মোবারক শেখ। বয়স ২২। শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া ইমামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের আমতলা এলাকায় নাসিম শেখের ধানের জমিতে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। যুবকের দুই হাত বাঁধা ছিল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার নলি কেটে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। পাশে পড়ে ছিল মদের বোতল। মৃত মোবারক পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। দিন কয়েক আগেই ছুটিতে বাড়ি ফিরেছিলেন। কী কারণে, কে তাঁকে খুন করল তা নিয়ে ধোঁয়াশা। তদন্তে নেমে পুলিশ মৃতের মোবাইলের কল লিস্ট, খোশাসপুর মদের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। তা দেখেই অভিযুক্ত নাসিরুদ্দিন শেখ ওরফে মিস্টারকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কী কেন খুন? পুলিশ জানিয়েছে, বছর খানেক আগে ওড়িশার কাজে গিয়ে ধৃত নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে পরিচয় হয় মোবারকের। সেখানে বন্ধুত্ব। ক্রমে ঘনিষ্ঠতা। তাঁরা সমকামিতায় জড়িয়ে পড়েন। তবে বেশ কিছুদিন যাবৎ সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন মোবারক। আর তা নিয়ে নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয় তাঁর। কয়েকদিন আগে মোবারক গ্রামে এসেছেন জানতে পেরে বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে ফের যোগাযোগ করেন নাসিরুদ্দিন। তবে তত দিনে খুনের পরিকল্পনা করে ফেলে নাসিরুদ্দিন! পরিকল্পনা মতো বৃহস্পতিবার রাতে খোশালপুর থেকে মদ কিনে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া আমতলার নির্জন ধান ক্ষেতে দু’জনে মদ্যপান করে। অভিযোগ, মদের নেশায় মোবারকের জামা খুলে দু’হাত বেঁধে ফেলে নাসিরুদ্দিন। তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুন করে চম্পট দেয়। শুক্রবার দেহ উদ্ধার হয়। শনিবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ধৃত জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে।
রবিবার দুপুরে ফরাক্কা থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কান্তি বিশ্বাস গ্রেপ্তারির কথা জানান। ধৃতকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। তাকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
