বাংলাদেশের জেলখানায় পচছে ভারতীয়রা। সাজার মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও জেলের অন্ধকারেই কাটছে জীবন। রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশের জেলখানায় যত বিদেশি বন্দি রয়েছেন তার অর্ধেকের বেশি ভারতীয়। সংখ্যাটা ২৩৮। এর মধ্যে ১৬৮ জনের সাজার মেয়াদ শেষ হলেও, জেলমুক্তির প্রথাগত নিয়ম পালিত না হওয়ায় আজও জেলজীবন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।
বাংলাদেশের ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ১৫টি দেশের মোট ৪০৭ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন। যার মধ্যে ২৩৮ জন ভারতীয়। ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, বন্দিদের মধ্যে ভারতীয় বন্দির মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে, বেশ কয়েকজন বন্দির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। দূতাবাসের দাবি, বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সাজা শেষ হওয়া ১২১ জন বন্দির একটি তালিকা পাঠিয়েছে। তবে, এই বন্দিদের অধিকাংশই ভারতীয় নাগরিক কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। সূত্রের খবর, বন্দিদের বেশিরভাগই অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বন্দি হন। বাংলাদেশের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬৮ জন ভারতীয়ের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনও তাঁরা জেলে বন্দি রয়েছেন। দাবি করা হচ্ছে, প্রশাসনিক জটিলতা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জেরে এঁদের কারাবাস দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
দূতাবাসের দাবি, বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সাজা শেষ হওয়া ১২১ জন বন্দির একটি তালিকা পাঠিয়েছে। তবে, এই বন্দিদের অধিকাংশই ভারতীয় নাগরিক কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
জুনের শুরুতে জানানো হয়েছিল বাংলাদেশে আটক ১৫২ জন বিদেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। যার মধ্যে ১৪৮ জন ভারতীয়। ৬ মাস আগে এই দাবি প্রকাশ করা হয়েছিল। অর্থাৎ এই বন্দিদের সাজার মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। রিপোর্টে তখনই বলা হয়েছিল, এই বন্দিদের পরিচয় যাচাই ও পরবর্তী কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে।
উল্লেখ্য, ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বন্দিদের মধ্যে ভারতের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মায়ানমার। ১৩৩ জন মায়ানমারের বাসিন্দা বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন ৬ জন নাইজেরিয়ান। মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের ৩ জন করে নাগরিক। রিপোর্ট বলছে, নিরাপত্তার কারণে বিদেশি বন্দিদের আলাদা সেলে রাখা হয়ে থাকে। এবং সিসিটিভির মাধ্যমে তাঁদের উপর নজর রাখা হয়। বাংলাদেশ সরকারের দাবি, সাজা শেষের পরও এইসব বন্দিদের মুক্তি দিতে না পারায় সরকারের উপর বোঝা বাড়ছে।
