নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পাঁচ সন্তানের জননী নারী বাবুর্চি রাবেয়া বেগমকে (৪৫) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে সারোয়ার জাহান সাগর নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, বিয়েসহ বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই নারীকে হত্যা করেন সাগর। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। গতকাল রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাহউদ্দিন।
নিহত রাবেয়া বেগম ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম চরখালী গ্রামের পালোয়ান বাড়ির বাসিন্দা। তিনি স্বামী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে রূপগঞ্জের নাওড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। জীবিকার তাগিদে উপজেলার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের একটি নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকদের রান্নার কাজ করতেন তিনি।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাহউদ্দিন বলেন, গত ৫ অক্টোবর সকালে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরে লেকপাড়ের একটি ঝোপের ভেতর থেকে রাবেয়া বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের মাধ্যমে রাবেয়ার কর্মস্থলের নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিক সারোয়ার জাহান সাগরকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সাগর দীর্ঘদিন ধরে রাবেয়াকে বিয়েসহ বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রাবেয়া প্রতিবারই তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সাগর। গত ৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাবেয়ার পিছু নেন সাগর। জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে তার পথরোধ করেন তিনি। সেখানে রাবেয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ লেকপাড়ের ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখেন। ঘটনার পর সাগর আবারও ওই নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকের কাজ করতে থাকেন।
হত্যাকা-ের পরদিন সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবেয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন সাগর। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।