কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পরিবর্তনপন্থিদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দ্বীপরাষ্ট্রটিতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। খবর আল জাজিরার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও লেখেন, ‘যারা কিউবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান, তাদের জন্য এখনই সময়।’
কিউবায় ব্যর্থ প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতি এবং অল্প কয়েকজনের বিলাসী জীবনযাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষকে সিআইএর সঙ্গে গোপন সহযোগিতার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
রুবিওর এ আহ্বান নিয়ে কিউবার কর্মকর্তারা বিদ্রূপ করেছেন। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ দে কসিও এক্সে লেখেন, ‘এখন যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যেই সিআইএ-এর জন্য লোক নিয়োগ করছে। সংস্থাটির মধ্যে নিশ্চয়ই চরম হতাশা বা দুরবস্থা চলছে, যে কারণে তাদেরকে টুথপেস্টের মতো নিজেদের সেবা বিক্রি করতে হচ্ছে।’
এদিকে সিআইএ পরে এক্সে স্প্যানিশ ভাষায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে গোয়েন্দা সংস্থাটির আগ্রহের বিষয়সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলে মনে করেন; এমন ব্যক্তিদের যোগাযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নিরাপদে যাতায়াত সম্ভব হলে প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দূতাবাসে সরাসরি যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভিডিওতে।
এ বছরের শুরুর দিকে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা তেল অবরোধের কারণে দেশটির সাধারণ মানুষ তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। জ্বালানির ঘাটতির পাশাপাশি দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও বেড়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা তেল অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকিতে সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটছে।
কিউবার ওপর ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। গত জানুয়ারিতে এক প্রাণঘাতী অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সামরিক বাহিনী আটক করার পর হাভানার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সূত্র : আল জাজিরা
