ক্রিকেটে সাধারণত বল হাতে দেখা যায় বোলারদেরই। তবে সিলেটে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ম্যাচে দৃশ্যটা ছিল একটু অন্য রকম। একে একে বল হাতে এলেন ১১ জনই। এমনকি উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দাঁড়িয়ে থাকা অধিনায়ক মাহিদুল ইসলামও শেষ পর্যন্ত বোলার হয়ে গেলেন! শুধু তাই নয়, স্বীকৃত ক্রিকেটে ২৬৩ ম্যাচ খেলার পর এই প্রথম বল হাতে নিলেন তিনি। ব্যাটারদের রাজত্বে এমন বিরল দৃশ্যই হয়ে থাকল এনসিএলের তৃতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ।
অন্যদিকে মিরপুরে খুলনার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে রাজশাহী, কক্সবাজারে ইনিংস হারের শঙ্কায় বরিশাল আর সিলেট একাডেমি মাঠে জয়ের পথে রংপুর।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে আজ ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিক সিলেট। ঢাকার ৬ উইকেটে ৫৪৭ রানের জবাবে তৃতীয় দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৪৩১ রান। চার ব্যাটসম্যান পেয়েছেন ফিফটি। ৮৯ রান করে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে থেমেছেন আসাদুল্লাহ আল গালিব। আশরাফুল হাসান ৮১ রানে অপরাজিত। এ ছাড়া অধিনায়ক জাকির হাসান ৬৫ ও সৈকত আলী করেছেন ৬০ রান। ৪৮ রানে থেমেছেন মুবিন আহমেদ।
সিলেটের ব্যাটারদের থামাতে গিয়ে ঢাকার অধিনায়ক মাহিদুল ইসলামও শেষ পর্যন্ত বল হাতে তুলে নেন। উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব ছেড়ে এক ওভার বোলিং করেন তিনি। প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ও স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ২৬৩ ম্যাচ খেলার পর এটাই তার প্রথম বোলিং। বাংলাদেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ইনিংসে ১১ জন বোলারের বল করার ঘটনা ঘটল মাত্র সপ্তমবার!
ঢাকার জন্য অবশ্য এমন অভিজ্ঞতা একেবারে নতুন নয়। ২০০৪-০৫ মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লিগে এই সিলেটের বিপক্ষেই ১১ জনকে দিয়ে বোলিং করিয়েছিল দলটি। জাতীয় লিগে ঢাকা বিভাগ এর আগেও এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। বিসিএলে মধ্যাঞ্চলও তিনবার ব্যবহার করেছে এক ইনিংসে ১১ বোলার।
মিরপুরে অবশ্য গল্পটা অন্য রকম। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১৯ রানে গুটিয়ে যাওয়া রাজশাহী দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। তৃতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ৩০০ রান তুলেছে তারা। তবে এখনো খুলনার প্রথম ইনিংসের ৪৮৪ রানের চেয়ে পিছিয়ে ৬৫ রানে। ফলোঅন এড়ানোর লড়াইয়ে ভালো অবস্থানে পৌঁছালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি রাজশাহী।
দিনের শুরুতে ৯ উইকেটে ৪৬৩ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনা তাদের প্রথম ইনিংস শেষ করে ৪৮৪ রানে। জবাবে রাজশাহীর হয়ে শুরুটা করেন হাবিবুর রহমান ও সাব্বির হোসেন। উদ্বোধনী জুটিতে ১২৬ রান যোগ করে তাঁরা খুলনার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। কিন্তু দুজনের কেউই সেঞ্চুরির দেখা পাননি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও ফিরতে হয়েছে হাবিবুরকে। ৮৩ বলে ৯০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও আটটি ছক্কা। সামিউন বাসীরের বলে লং অফে আফিফের ক্যাচ হন তিনি। সাব্বিরের আক্ষেপ আরও কিছুটা আলাদা। ৮৮ রান করে মেহেদী হাসানের সপ্তম শিকার হন এই ওপেনার। তার সঙ্গে ১১৩ রানের জুটি গড়া ২১ বছর বয়সী নাঈম আহমেদ করেন ৬৯ রান। দিন শেষে প্রিতম কুমার ২৭ ও সাব্বির রহমান ২১ রানে অপরাজিত।
কক্সবাজারে চট্টগ্রামের বিপক্ষে কঠিন সময় পার করছে বরিশাল। প্রথম ইনিংসে ৫৭৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়া চট্টগ্রামের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৪৯ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে বরিশাল। এখনো পিছিয়ে ১৪৫ রানে। ফলে শেষ দিনে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা কাটাতে হলে ব্যাট হাতে বড় প্রতিরোধ গড়তে হবে তাদের।
চট্টগ্রামের বড় সংগ্রহে ছিল তিনটি শতক। সাদিকুর রহমানের ১৪৯ ও শাহাদাত হোসেনের ১০৯ রানের পর তৃতীয় দিন শতক তুলে নেন ইরফান শুক্কুর। আগের দিন ৯২ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত করেন ১১২ রান। ৪ উইকেটে ৪৭৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা চট্টগ্রাম থামে ৫৭৬ রানে। বরিশালের হয়ে অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন ৭৪ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছেন। তবে দলকে বড় বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য সেটি যথেষ্ট নয়।
সিলেট একাডেমি মাঠে আবার জয়ের সুবাস পাচ্ছে রংপুর। ময়মনসিংহের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১২৭ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৯৫ রান তুলেছে তারা। সব মিলিয়ে এগিয়ে ৩২২ রানে। ৬ উইকেটে ১৮৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা ময়মনসিংহ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৯৫ রানে। ওপেনার খালিদ হাসান করেন ৭২ রান, আবু হায়দার যোগ করেন ৫২। রংপুরের দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক আকবর আলীর ব্যাট থেকে এসেছে ৭৪ রান।
এনসিএলের তৃতীয় দিন তাই এক মাঠে বিরল বোলিংয়ের নজির, অন্য মাঠে সেঞ্চুরি-ফিফটির উৎসব, কোথাও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা, কোথাও আবার ইনিংস হারের শঙ্কা। চার ম্যাচে চার রকমের গল্প নিয়ে শেষ হলো দিনটি।
