নামের ভার বিচার করলে দুই দলের মধ্যে বিস্তর ফারাক। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে দেখা মেলে একদম উল্টো চিত্রের। আর সেখানে নেতৃত্ব দেন উদীয়মান আর্জেন্টাইন তারকা নিকো পাজ। তার নৈপুণ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে গুঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় কোমো।
গত বুধবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ঘরের মাঠে ইতালিয়ান ক্লাব কোমো ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় ঐতিহ্যবাহী ইংলিশ ক্লাব ইউনাইটেডকে। নির্বিষ প্রতিপক্ষের বিপরীতে জোড়া গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করেন পাজ।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ২২ বছর ৪৩ দিন বয়সে তিনটি গোলে অবদান রেখে একটি বিশেষ কীর্তি গড়েছেন পাজ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে যাওয়া জাতীয় দলের সতীর্থ লিওনেল মেসির পর সবচেয়ে কম বয়সী আর্জেন্টাইন হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় এক ম্যাচে তিনটি গোলে অবদানের নজির গড়েছেন তিনি। মেসি ২০০৯ সালের এপ্রিলে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ২১ বছর বয়সে দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।
শুধু তাই নয়, ম্যান ইউনাইটেডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে জোড়া গোল করার রেকর্ডও এখন পাজের দখলে। তিনি ভেঙে দিয়েছেন রাউল গঞ্জালেজের ২৬ বছর ধরে টিকে থাকা কীর্তি। ২০০০ সালের এপ্রিলে রাউল জোড়া গোল করেছিলেন রেড ডেভিলদের বিপক্ষে।
নিজেদের ১১৯ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলছে কোমো। অভিষেক ম্যাচে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে উড়ন্ত শুরুর পর ফেইনুর্ডের কাছে ৩-২ গোলে হেরে যায় তারা। সেই ধাক্কা সামলে ইউনাইটেডের বিপক্ষে এবারের জয়টির তাৎপর্য বহুগুণ বেশি।
ম্যাচের পর উচ্ছ্বসিত পাজ বলেন, ‘আমি যা স্বপ্ন দেখেছিলাম, এটি তার চেয়েও বেশি কিছু। আমরা অবিশ্বাস্য একটি ম্যাচ খেলেছি। আমাদেরকে এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। কোমোর সঙ্গে জড়িত সবার জন্য এটি ঐতিহাসিক এক রাত।’
চলতি মৌসুমে ভীষণ ছন্দে আছেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার পাজ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচে ৪ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট রয়েছে তার নামের পাশে। মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মর্যাদাপূর্ণ ১০ নম্বর জার্সির যোগ্য উত্তরসূরিও ভাবা হচ্ছে তাকে।
