সংবাদ · সাধারণ
মোটরসাইকেলের মাইলেজ কমছে? দায়ী হতে পারে যে ৮টি কারণ
১১/১০/২০২৬

মোটরসাইকেলে আগের তুলনায় বেশি জ্বালানি খরচ হলে অনেকেই ইঞ্জিনের বড় কোনো সমস্যা হয়েছে বলে মনে করেন। তবে সব সময় গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটিই এর কারণ নয়। বাইক চালানোর ধরন, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি কিংবা ছোটখাটো যন্ত্রাংশের সমস্যাও মাইলেজ কমিয়ে দিতে পারে।জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রথমে সমস্যার সম্ভাব্য কারণগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। মোটরসাইকেলের মাইলেজ কমে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে এমন আটটি বিষয়।১. অ্যাক্সিলারেটর ও ব্রেকের অতিরিক্ত ব্যবহারবারবার হঠাৎ গতি বাড়ানো, ঘন ঘন ব্রেক করা এবং অপ্রয়োজনে ইঞ্জিনের গতি বাড়ালে জ্বালানি খরচ বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ক্লাচ চেপে বাইক চালানোও ভালো অভ্যাস নয়।এর পরিবর্তে মসৃণভাবে বাইক চালানো, পরিস্থিতি অনুযায়ী গিয়ার পরিবর্তন করা এবং অপ্রয়োজনীয় গতি বাড়ানো-কমানো এড়িয়ে চলা উচিত। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়তা মিলতে পারে।২. জ্বালানির মানে সমস্যানিম্নমানের বা দূষিত পেট্রল মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে কর্মক্ষমতা কমার পাশাপাশি জ্বালানি খরচও বাড়তে পারে।এ ধরনের সমস্যা এড়াতে বিশ্বস্ত পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়া এবং বাইকের প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত মানের পেট্রল ব্যবহার করা প্রয়োজন।৩. সময়মতো ইঞ্জিন অয়েল না বদলানোইঞ্জিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মধ্যে ঘর্ষণ কমাতে ইঞ্জিন অয়েল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন একই অয়েল ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এতে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি খরচেও প্রভাব পড়তে পারে।তাই মোটরসাইকেলের ম্যানুয়ালে উল্লেখ করা সময় বা দূরত্ব অনুযায়ী ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি অয়েলের পরিমাণও নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।৪. এয়ার ফিল্টার অপরিষ্কার থাকাইঞ্জিনে প্রয়োজনীয় বাতাস প্রবেশে এয়ার ফিল্টার গুরুত্বপূর্ণ। এতে ধুলাবালি জমে গেলে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। এর ফলে ইঞ্জিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়া এবং জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।বিশেষ করে ধুলাবালিপূর্ণ রাস্তায় নিয়মিত চলাচল করলে এয়ার ফিল্টার পরীক্ষা করা উচিত। অবস্থা অনুযায়ী এটি পরিষ্কার করতে হবে অথবা পরিবর্তন করতে হবে।৫. টায়ারের বাতাস কম থাকাটায়ারে প্রয়োজনের তুলনায় কম বাতাস থাকলে রাস্তার সঙ্গে টায়ারের প্রতিরোধ বেড়ে যায়। ফলে বাইক চালাতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হতে পারে এবং জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে টায়ারের চাপ ঠিক না থাকলে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এ কারণে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিত চাপ বজায় রাখা জরুরি। নিয়মিত টায়ারের বাতাস পরীক্ষা করুন। সম্ভব হলে প্রতি দুই সপ্তাহে একবার এবং দীর্ঘ যাত্রার আগে চাপ পরীক্ষা করে নিন।৬. সার্ভিসিংয়ে অবহেলানিয়মিত সার্ভিসিং না করালে ছোটখাটো যান্ত্রিক সমস্যা ধীরে ধীরে বড় হতে পারে। স্পার্ক প্লাগের ত্রুটি, ব্রেক আটকে থাকা, চেইনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করা কিংবা ইঞ্জিনের সমস্যা বাইকের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি খরচেও।তাই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্ভিসিং করানো প্রয়োজন। মাইলেজ হঠাৎ কমে গেলে সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা করানো উচিত।৭. অতিরিক্ত গতি ও ভুল গিয়ার ব্যবহারবেশি গতিতে চলার সময় বাতাসের বাধা বাড়ে। এতে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হতে পারে। আবার বাইকের গতি অনুযায়ী সঠিক গিয়ার ব্যবহার না করলেও ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা জ্বালানি খরচ বাড়াতে পারে।রাস্তার অবস্থা ও ট্রাফিক বিবেচনায় নিরাপদ গতিতে চলুন। পাশাপাশি ইঞ্জিনের গতি অনুযায়ী যথাসময়ে গিয়ার পরিবর্তন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।৮. দীর্ঘ সময় রোদে পার্ক করে রাখাদীর্ঘক্ষণ সরাসরি রোদে রাখলে মোটরসাইকেলের জ্বালানি ট্যাঙ্কসহ বিভিন্ন অংশের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। তবে শুধু রোদে পার্ক করার কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেট্রল নষ্ট হয়ে মাইলেজ কমে যায়, এমনটি সব মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বলা যায় না। আধুনিক বাইকে জ্বালানির বাষ্পীভবন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও থাকতে পারে।সম্ভব হলে ছায়াযুক্ত স্থানে বাইক পার্ক করা ভালো। বাইক থেকে পেট্রলের গন্ধ পাওয়া গেলে, জ্বালানি লিক হলে কিংবা অস্বাভাবিকভাবে পেট্রল কমে গেলে দ্রুত মেকানিকের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।মাইলেজ ভালো রাখতে যে অভ্যাসগুলো জরুরিমোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি বিষয় নিয়মিত মেনে চলতে পারেন:নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করুন।এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন এবং প্রয়োজনে বদলে নিন।টায়ারে সঠিক চাপ বজায় রাখুন।হঠাৎ গতি বাড়ানো ও ঘন ঘন ব্রেক করা এড়িয়ে চলুন।নিয়মিত সার্ভিসিং করান।দীর্ঘ সময় অপ্রয়োজনে ইঞ্জিন চালু রাখবেন না।এসব নিয়ম মেনে চলার পরও মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বালানি লিক, ব্রেকের সমস্যা, স্পার্ক প্লাগের ত্রুটি কিংবা ইঞ্জিনের অন্য কোনো সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। তাই দক্ষ মেকানিক দিয়ে মোটরসাইকেল পরীক্ষা করালে সমস্যার কারণ শনাক্ত করা এবং অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗