পড়ুয়াদের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। গত কয়েক মাসে আইআইটি-সহ বিভিন্ন কলেজে বহু পড়ুয়ার জীবন শেষ করে দেওয়ার খবর সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অবসাদগ্রস্ত হয়ে বা মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এই তরুণ-তরুণীরা। হস্টেলের ঘরে থাকা পাখা বা সিলিং ফ্যান ব্যবহার করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন একাধিক পড়ুয়া। সেই কারণেই গুজরাতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে লাগানো হল এক বিশেষ ধরনের পাখা। যা পড়ুয়াদের আত্মহত্যা করা থেকে বিরত রাখতে পারবে বলেই আশা করা হচ্ছে। কী ভাবে? সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। যদিও সেটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সিলিং থেকে ঝুলছে সাদা রঙের পাখা। সেটিকে দেখতে আর পাঁচটা সাধারণ পাখার মতো হলেও, আদতে সেটি সাধারণ পাখাগুলির থেকে খানিক আলাদা। সেটির নীচে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক ব্যক্তি। পাখাটি কেন আলাদা, তা দেখানোর জন্যই দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। একটি ওড়না নিয়ে তিনি পাখাটির ব্লেডগুলির উপর রাখলেন। তার পর ওড়নাটি ধরে টান দিলেন। টান পড়তেই পাখাটির ব্লেডের অংশ খুলে বেরিয়ে এল বা ঝুলে পড়ল। কিন্তু, সেটি ভেঙে গেল না। পাখাটির উপরের অংশের সঙ্গে ব্লেডের অংশগুলিকে যুক্ত করা হয়েছে একটি লম্বা স্প্রিঙের সাহায্যে। দাবি করা হয়েছে, দশ কেজির বেশি ওজন পড়লেই ব্লেডের অংশটিতে লাগানো স্প্রিং বড় হয়ে যাবে এবং সেটি এ ভাবে খুলে গিয়ে ঝুলে আসবে। ফলত, কোনও পড়ুয়া এ ভাবে আর আত্মহত্যা করতে পারবেন না বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ছাত্রাবাস জুড়ে প্রায় ৩৫০টি এ ধরনের পাখা লাগানো হয়েছে।
‘খুরপেনচিনফ্রা’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটি ভাইরালও হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার বার সেটি দেখে ফেলা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া এবং মন্তব্যের ঝ়়ড় উঠেছে। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োটি নিয়ে ভাল মতো সাড়া পড়েছে। অধিকাংশ নেটাগরিক যদিও মনে করছেন, বিশেষ ধরনের পাখা না লাগিয়ে, পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিলে হয়তো আত্মহত্যার সংখ্যায় রাশ টানা সম্ভব হবে। অনেকে আবার এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
