আজকাল ওয়েবডেস্ক: জেন জি প্রজন্মের জন্য তাদের কৌশল ও বার্তা আরও নিখুঁত এবং নির্ভুল করতে ৮০ সদস্যের একটি নতুন অভ্যন্তরীণ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলীয় সূত্রে খবর, গোরক্ষপুরের সাংসদ রবি কিষাণ, নয়াদিল্লির সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ, বেঙ্গালুরুর দক্ষিণের সাংসদ তেজস্বী সূর্য, ভদোদরার সাংসদ হেমাঙ্গ জোশী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি ইরানি দলে রয়েছেন। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘যুব সংবাদ’।
কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক মন্ত্রী মনসুখ মান্ডাব্যর নেতৃত্বে গঠিত দলটিকে ছ’টি ওয়ার্কিং গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি বিশদ রিপোর্ট তৈরির জন্য গত কয়েক মাসে তিনবার বৈঠক করেছে এই দল। তরুণ প্রজন্ম কি হিন্দুত্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে? তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা উচিত? ‘জেন জি’ শব্দটি কি ব্যবহার করা উচিত? এই ধরনের প্রশ্নগুলিই খতিয়ে দেখা হয়েছে রিপোর্টে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে জুলাই মাসে হওয়া ছাত্র বিক্ষোভের মাত্রা ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে দলের ভুল অনুমানের কারণেই ঘটনা হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়। ফলস্বরূপ তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
তাঁর পরামর্শ কী তা জানতে চাওয়া বলে রবি হিন্দুস্তান টাইমস-কে বলেন, “আমি তো বলেই আসছি যে, তোমাকে শুধু নিজের মতো থাকতে হবে। ভুল করলে কিছু যায় আসে না। তোমাকে তা স্বীকার করতে হবে, কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যেন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়।”
বিজেপি সূত্রে খবর, দলের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি, ৪৫ বছর বয়সী নিতিন নবীন, প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং অনেক পরামর্শ শোনেন। যেগুলির মধ্যে কয়েকটি এখন বিজেপির কৌশলের অংশ হিসেবে কার্যকর করা হয়েছে। এরকমই একটি উদাহরণ ছিল বিরোধী দলের বিক্ষোভ মোকাবিলার দলীয় কৌশল নির্ধারণ। ওয়ার্কিং গ্রুপ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, যদি বিরোধী দলের বিক্ষোভে ১০ হাজার লোকের সমবেত হয়, তবে সরকারের বিক্ষোভে আরও অনেক বেশি শক্তি প্রদর্শন করতে হবে, ধরা যাক ৫০ হাজার।
এই সপ্তাহে, যখন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও অন্যরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করছিলেন, তখন বিজেপি গুজরাট, অসম এবং দেশের অন্যান্য অংশে রাহুলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আয়োজন করছিল। তাদের অভিযোগ, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের পদ থেকে অপসারিত কংগ্রেস সাংসদ বিমল আকোইজামের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ তিনি উপেক্ষা করছেন।
ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর প্রথম অনুষ্ঠান ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৮ সেপ্টেম্বরের ভদোদরার সভাটি। দলের তরফে কুইন ব্যান্ডের ‘উই উইল রক ইউ’ এবং ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর’-এর গান বাজানো হয়, আর মোদি একটি দীর্ঘ এল-আকৃতির মঞ্চ ধরে হেঁটে দলের জন্য রিল তৈরি করেন।
কার্যকরী দলটি জেন জি-এর জন্য ‘যুবক’-এর মতো আরও ভারতীয় নাম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে এবং হিন্দুত্ব বিষয়ে তরুণদের মতামত নিয়েও আলোচনা করেছে। রবি বলেন, “তারা জন্মসূত্রে হিন্দু, তাই আমার মনে হয় না এ নিয়ে বিশেষ আলোচনার কোনও কোনও প্রয়োজন আছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আধ্যাত্মিক শক্তি এবং সংস্কার (ঐতিহ্য)-এর ওপর মনোযোগ দেওয়াই শ্রেয়।”
আগামী দিনগুলিতে বিজেপি দু’টি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছতে চাইছে। এক, নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক এবং দুই, তরুণীরা। রবি বলেন, “নারীরা জনসংখ্যার অর্ধেক, আমাদের অবশ্যই তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
বিরোধীরাও এই কাজটিই করছে। গত সোমবার বিরোধী দলগুলির সমাবেশে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাকে নেহা বোরা, ঐশী ঘোষ এবং জান্নাত বিষ্ণোইয়ের মতো জেন জি প্রজন্মের নারী নেত্রীরা ঘিরে রেখেছিলেন।
