বাংলাদেশে এরই মধ্যে গ্রিন বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন কাঠামো ও সনদ ব্যবস্থা রয়েছে। ডিএনসিসির গ্রিন বিল্ডিং ফ্রেমওয়ার্ক, লিড সনদ এবং আইএফসির এসি সার্টিফিকেশন নিয়ে কাজ হচ্ছে।
গ্রিন হাউজিং বা পরিবেশবান্ধব আবাসন নির্মাণকে এখন আর নিছক একটি বিপণন কৌশল কিংবা প্রচারণামূলক পরিভাষা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা, বিশেষ করে ঢাকা শহরের পরিবেশগত পরিস্থিতি বিবেচনায় একে অপরিহার্য প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসেছে। দ্রুত নগরায়ণ, জমির ক্রমহ্রাসমান প্রাপ্যতা, ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন এবং জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব আবাসনকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। জমির প্রাপ্যতা কমছে, আর উন্নয়ন ক্রমেই ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। অন্য শহরগুলোতেও নগর উন্নয়ন ও আবাসন খাতে ঢাকার অতীত ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট আমাদের সামনে নতুন বাস্তবতা তুলে ধরছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রিন হাউজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে পরিবেশবান্ধব আবাসনকে সবার জন্য সহজলভ্য করতে হলে এর নির্মাণ ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। গ্রিন বিল্ডিং বলতে যদি অতিরিক্ত স্মার্ট যন্ত্রপাতি, সেন্সর কিংবা বিভিন্ন প্রযুক্তি সংযোজন এবং সনদ অর্জনকেই বোঝানো হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই নির্মাণ ব্যয় বাড়বে। প্রচলিত ভবনের তুলনায় পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে তা শেষ পর্যন্ত বিলাসী পণ্যে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অথচ পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাওয়া এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ কমানোর প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি সাধারণ মানুষের। নির্মাণ ব্যয় বেড়ে গেলে তাদের পক্ষেই পরিবেশবান্ধব আবাসন কেনা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে গ্রিন হাউজিংয়ের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। তাই পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এমন কাঠামো প্রয়োজন, যা পরিবেশগত সুফল নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ।
বাংলাদেশে এরই মধ্যে গ্রিন বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন কাঠামো ও সনদ ব্যবস্থা রয়েছে। ডিএনসিসির গ্রিন বিল্ডিং ফ্রেমওয়ার্ক, লিড সনদ এবং আইএফসির এসি সার্টিফিকেশন নিয়ে কাজ হচ্ছে। কিন্তু ডেভেলপার হিসেবে আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, এসব কাঠামো অনুসরণ করতে গিয়ে ভবন নির্মাণের ব্যয় বাড়ছে। ফলে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে, এ বাড়তি ব্যয় কে বহন করবে? সবাই গ্রিন বিল্ডিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, গ্রিন ফাইন্যান্সিংয়ের কথাও বলছেন। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত ব্যয়ের দায় কার ওপর পড়বে, সে বিষয়ে স্পষ্ট সমাধান প্রয়োজন। সবাই পরিবেশবান্ধব ভবন চান, কিন্তু এর জন্য বাড়তি অর্থ দিতে কতটা আগ্রহী, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জলবায়ুর উপযোগী গ্রিন বিল্ডিং প্রযুক্তি এবং নকশার কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। ঢাকা অত্যন্ত উষ্ণ ও আর্দ্র একটি শহর। এ ধরনের পরিবেশে ভবন নির্মাণের জন্য যে প্রযুক্তি ও নকশা কার্যকর, তা অন্য দেশের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। সিঙ্গাপুর, দুবাই কিংবা ইউরোপের গ্রিন বিল্ডিং কাঠামো সরাসরি আমদানি করে প্রয়োগ করলে আমাদের নির্মাণ ব্যয় আরো বেড়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের জলবায়ু, অর্থনীতি ও স্থানীয় বাস্তবতার উপযোগী সমাধান তৈরি করতে হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে এ ধরনের আবাসনকে সহজলভ্য করা সম্ভব।
এক্ষেত্রে ডেভেলপারদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দায়িত্ব হলো বাজারের চাহিদার প্রতি সাড়া দেয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মেনে চলা। একদিকে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম ও মানদণ্ড পরিপালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের চাহিদা ও ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়। ভবনের গুণগত মান নিশ্চিত করতে শুধু নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। মানের বিচ্যুতি রোধে কার্যকর মাননিয়ন্ত্রণ, বিধিবিধানের যথাযথ পরিপালন এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে মান নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটি যেন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়িয়ে না দেয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
গ্রিন হাউজিংয়ের প্রসারে বাজারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবান্ধব আবাসনের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা সম্পর্কে ক্রেতাদের সচেতন করতে হবে। একটি গ্রিন বিল্ডিংয়ে অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে প্রচলিত ভবনের তুলনায় কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। কিন্তু এ বাড়তি মূল্যকে শুধু ক্রয়মূল্যের বৃদ্ধি হিসেবে দেখলে চলবে না। ভবনের নকশা, নির্মাণমান ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যবহার এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ক্রেতারা যদি এ সুবিধাগুলো সম্পর্কে সচেতন হন, তাহলে পরিবেশবান্ধব আবাসনের জন্য বাড়তি মূল্য দেয়ার যৌক্তিকতাও তাদের কাছে স্পষ্ট হবে।
সুতরাং গ্রিন হাউজিংকে কার্যকর ও জনপ্রিয় করতে হলে নীতিমালা, নির্মাণপ্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। এমন পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে, যা একদিকে পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেও থাকবে। গ্রিন হাউজিংকে বিলাসী পণ্যের সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে সবার জন্য প্রয়োজনীয় ও বাস্তবসম্মত আবাসন ব্যবস্থায় রূপান্তর করাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য।
পরিবেশবান্ধব আবাসনের প্রসারে ক্রেতাদের কাছে এর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুবিধা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি। একজন ক্রেতা যদি আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ ও পানির বিল বাবদ কতটা সাশ্রয় করতে পারবেন, তার পরিমাপযোগ্য হিসাব দেখতে পান, তাহলে গ্রিন হাউজিংয়ের প্রতি তার আগ্রহ বাড়বে। শুধু পরিবেশ রক্ষার কথা বলে ক্রেতাকে উদ্বুদ্ধ করা কঠিন, বরং পরিবেশবান্ধব ভবনে বসবাসের ফলে মাসিক বিদ্যুৎ ও পানির ব্যয় কতটা কমতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ কত হতে পারে—এসব বিষয় পরিমাণগতভাবে তুলে ধরতে হবে। এ সুবিধাগুলো সম্পর্কে ক্রেতাদের সচেতন করতে পারলে বাজারে পরিবেশবান্ধব আবাসনের চাহিদাও তৈরি হবে।
শিল্প খাতের দিকে তাকালে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়। একটি তৈরি পোশাক কারখানা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেন গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়? কারণ এর সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক সুবিধা যুক্ত রয়েছে। পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার হারানোর ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ সেখানে পরিবেশবান্ধব হওয়ার একটি সুস্পষ্ট বাজারভিত্তিক প্রণোদনা রয়েছে। আবাসন খাতেও এ ধরনের সুবিধা ও আর্থিক যৌক্তিকতা ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। বাজারে চাহিদা তৈরি হলে ডেভেলপাররাও সেই চাহিদার প্রতি সাড়া দেবেন।
আমাদের কাছে স্মার্ট বিল্ডিংয়ের ধারণাটি খুবই সরল। নকশার মাধ্যমে প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল ও দিনের আলো ব্যবহারের সুযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেয়া গেলে ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। আমরা প্রায়ই ভবনে সাশ্রয়ী ই-গ্লাস কিংবা জ্বালানিসাশ্রয়ী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা ভাবি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর প্রযুক্তি হলো সেই প্রযুক্তি, যা স্থাপন করার প্রয়োজনই পড়ে না। ভালো নকশার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা গেলে অতিরিক্ত প্রযুক্তি স্থাপনের প্রয়োজন কমে আসে। ফলে নির্মাণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভবনের জ্বালানি ব্যবহারও কমানো সম্ভব। বাংলাদেশের বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এ নকশাভিত্তিক সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত।
বিশ্বব্যাংকের একটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানিসংশ্লিষ্ট ও প্রক্রিয়াজনিত কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের প্রায় ৩৭ শতাংশের সঙ্গে ভবন খাতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণ কমানোর আলোচনায় ভবনকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের জন্য জ্বালানি ও সম্পদের সংকটও বড় উদ্বেগের বিষয়। ভবিষ্যতে এ সংকট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখন থেকেই ভবন ব্যবহারকারী ও ক্রেতাদের সচেতন করা প্রয়োজন। তাদের মধ্যে চাহিদা তৈরি না হলে ডেভেলপারদের জন্য পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ আর্থিকভাবে টেকসই করা কঠিন হয়ে পড়বে।
আমরা নিজেরাও এক্ষেত্রে উদ্যোগ নিচ্ছি। আমি যে প্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিধিত্ব করছি, সেটিও গ্রিন বিল্ডিংয়ের সনদ অর্জন এবং পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছে। তবে কাজ করতে গিয়ে আমরা বুঝতে পারছি, এ ধরনের ভবন নির্মাণে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। নির্মাণ ব্যয় বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই অর্থায়ন ও প্রণোদনার প্রশ্ন সামনে আসে। এ ব্যয় শুধু ক্রেতা কিংবা ডেভেলপারদের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবেশবান্ধব আবাসনের প্রসার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণে কম সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা গেলে ডেভেলপারদের বাড়তি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, রাজউক ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ পরিবেশবান্ধব ভবনের জন্য উপযুক্ত প্রণোদনা চালু করতে পারে। সহজ শর্তে ঋণ, সুদে ছাড় কিংবা বিধিবিধানের আওতায় যথাযথ প্রণোদনার মতো উদ্যোগ নির্মাণ ব্যয় ও বিনিয়োগের বাধা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
আমাদের শহরগুলোয় নগরায়ণ অনেকটাই হয়ে গেছে। তাই নতুন ভবনের পাশাপাশি বিদ্যমান ভবনগুলোর গ্রিন রেট্রোফিটিং নিয়েও স্থপতি ও কাঠামো প্রকৌশলীদের ভাবতে হবে। বিদ্যমান ভবনের সংখ্যা অনেক। এসব ভবনে পরিবেশবান্ধব সংস্কার করা যায় কিনা এবং এজন্য স্বল্প সুদের অর্থায়নের ব্যবস্থা করা সম্ভব কিনা তা বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। এতে ভবনগুলোর জ্বালানি ব্যবহার ও মাসিক পরিচালন ব্যয় কমবে, পাশাপাশি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আমরা এখন গ্রাহকদের বোঝানোর চেষ্টা করছি, একটি গ্রিন অ্যাপার্টমেন্ট কেনার অর্থ শুধু একটি আবাসন কেনা নয়; বরং আগামী ২০-৩০ বছরের পরিচালন ব্যয়, জীবনযাপনের স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রতিকূলতা মোকাবেলার সক্ষমতায় বিনিয়োগ করা। তবে এ বিষয়ে সচেতনতা শুধু ডেভেলপার ও গ্রাহকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। জাতীয় পর্যায়েও সচেতনতামূলক উদ্যোগ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরিতে যুক্ত সরকারি সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব ভবন কিনতে তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করলেও দীর্ঘমেয়াদে একজন ক্রেতা কীভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন এবং এর মাধ্যমে কীভাবে দেশের সম্পদের সাশ্রয় ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হতে পারে তা ক্রেতাদের বোঝাতে হবে। কারণ আমরা যে শ্রেণীর ক্রেতাদের নিয়ে কথা বলছি, তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রসারে তাদের সম্পৃক্ত করাও কঠিন হবে।
অন্যদিকে ডেভেলপারদেরও আরো পরিমাপযোগ্য ও স্বচ্ছ গ্রিন সলিউশন দিতে হবে। আমরা এমন একটি সময়ের অপেক্ষায় আছি, যখন একজন ক্রেতা নিজে থেকেই বলবেন, ‘আমি গ্রিন অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে চাই। কারণ এটি শুধু পরিবেশের জন্য ভালো নয়; এতে আমার বিদ্যুৎ বিল কমবে, বসবাসের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে এবং সম্পদের মূল্যও ভালো থাকবে।’ ক্রেতারা যখন নিজের প্রয়োজন ও আর্থিক বিবেচনা থেকেই পরিবেশবান্ধব আবাসন বেছে নেবেন, তখন গ্রিন ও স্মার্ট হাউজিং বাজারের স্বাভাবিক চাহিদায় পরিণত হবে। ডেভেলপার হিসেবে আমাদেরও সেই চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে এগোতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, ভবন নির্মাতা, সরকার, অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সম্মিলিতভাবে কাজ করবে, যাতে পরিবেশবান্ধব ও স্মার্ট আবাসন দেশের আবাসন খাতের একটি স্বাভাবিক ধারায় পরিণত হয়।
শ্রাবন্তী দত্ত: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এবিসি রিয়েল এস্টেট লিমিটেড
[বণিক বার্তা আয়োজিত স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬-এ
প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে]
