রেলওয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোচগুলো পরীক্ষা ও চালু করার আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য লোকোমোটিভ, প্রয়োজনীয় ক্রু, টুলভ্যানসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত হলে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ট্রেনের কোচসংকট ও যাত্রীসেবার সমস্যাগুলো কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ভারতের রাইটস লিমিটেডের মাধ্যমে এসব কোচ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ সরবরাহ চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে চার ধরনের ১৮টি কোচ এসেছে।
প্রথম চালানের কোচগুলোর মধ্যে রয়েছে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার, তিনটি এসি চেয়ার, দুটি এসি স্লিপার ও দুটি এসি পাওয়ার কার। পাওয়ার কার দুটিতে গার্ডদের জন্য পৃথক কামরা এবং যাত্রীদের মালামাল বহনের ব্যবস্থা রয়েছে। কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালায় অবস্থিত রেলকোচ কারখানায় তৈরি করা হয়েছে। চিলাহাটি-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালুর দাবি, নতুন কোচগুলো দিয়ে সরাসরি চিলাহাটি-কক্সবাজার পর্যটন রুটে একটি আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুত কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত করা হলে কোচের সংকট কমবে। একই সঙ্গে নতুন রুটে ট্রেন চালুর সুযোগও তৈরি হতে পারে। পরীক্ষা শেষে ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ বলেন, কারখানায় পৌঁছানো কোচগুলো এখনো খোলা হয়নি। শিগগিরই সেগুলো খুলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ কাজে রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভারতের বিশেষজ্ঞরাও অংশ নেবেন। কারখানায় যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর কোচগুলোর ট্রায়াল রান দেওয়া হবে। এরপর সেগুলো রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রথম চালানের ১৮টি কোচের পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম শেষ হলে সেগুলো যাত্রী পরিবহনে ব্যবহারের পরবর্তী ধাপে যাবে। বাকি কোচগুলো সরবরাহের মাধ্যমে রেলবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
The post ভারত থেকে প্রথম চালানে এলো ১৮ রেলকোচ appeared first on ভোরের চেতনা.
