পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারির সিদ্ধান্তকে আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াকাস আকরাম জানান, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন স্থগিত এবং মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিসহ নেতাদের আটকের প্রতিবাদে শিগগিরই সর্বোচ্চ আদালতে
রিট আবেদন করা হবে। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের ‘লংমার্চ’ চলাকালেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে দেশটির রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে জরুরি অবস্থার মেয়াদ ছয় মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্র শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারের দাবি, সীমান্ত ঘেঁষা এই প্রদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্যর্থ হয়েছে পিটিআই প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ও তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অভিযোগ করেছেন, প্রাদেশিক সরকার জঙ্গিগোষ্ঠী টিটিপির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উদাসীনতা দেখিয়েছে। শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা হামলায় নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সরকার স্বরাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থেই এই সংবিধানসম্মত হস্তক্ষেপের যুক্তি দাঁড় করায়।
অন্যদিকে পিটিআই সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, এটি নিরাপত্তা সংকট কাটিয়ে ওঠার কোনো চেষ্টা নয়, বরং ইমরান খানের গণপপুলারিটিকে ভয় পেয়ে এবং পিটিআইকে বিভক্ত করতে চালিত একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। পিটিআই নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন সত্ত্বেও ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তাদের পূর্বঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারির পর প্রদেশের প্রশাসন ও নিরাপত্তা তদারকিতে উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাকদারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি না হলেও এই অনানুষ্ঠানিক কমিটি প্রতিদিনের শাসনকার্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট করবে। আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার, তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারসহ ক্ষমতাসীন জোটের বিভিন্ন শরিক দলের প্রতিনিধিরা এই কমিটিতে রয়েছেন। এর আগে রাজ্যপাল ফয়সাল করিম কুন্দির অধীনে ১১ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।
এদিকে, কেপিকিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসনের সাংবিধানিক অনুমোদনের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ও সিনেটের যৌথ অধিবেশন ডেকেছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। পাকিস্তানের আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার আকিল জানিয়েছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই জরুরি অবস্থার মেয়াদ ছয় মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।
