গবেষণা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে জয়পুরহাটের কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিক আহমেদ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তা নিয়ে গবেষণার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিযোগিতায় ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ পেয়েছে সে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় স্কলারশিপ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে আশিক।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আশিকের এ অর্জনের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ।
আশিক আহমেদ জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার শিক্ষার্থী হলেও তার বাড়ি পাশের ক্ষেতলাল উপজেলার কাঁচাকুল গ্রামে। তার বাবা মিজানুর রহমান ও মা আকলিমা।
আশিক জানায়, তার গবেষণার বিষয় ছিল, ‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী কী উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।’ শিক্ষা খাতে এআইয়ের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়াকে সে আনন্দ ও অনুপ্রেরণার বিষয় হিসেবে দেখছে।
আশিক আরও জানায়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইমার্স এডুকেশন আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায়ও সে স্কলারশিপ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন ও সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে লেখা প্রকাশের সুযোগ রয়েছে বলে জানায় সে।
আশিকের ভাষ্য, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের স্বীকৃতি অর্জন তার জন্য আনন্দের ও অনুপ্রেরণার। তার এ অর্জন জয়পুরহাটের অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গবেষণা, লেখালেখি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করবে বলে আশা তার।
কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বকুল বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর স্বীকৃতি পাওয়া তাদের জন্য গর্বের। আশিকের সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক লক্ষ্য ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব। তার এ অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিদ্যালয় ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও গবেষণামুখী মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আশিকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। এ ধরনের অর্জন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।
