সিলেট ভয়েস ডেস্ক · ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৩৬ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিম তালুকদার (নিখোঁজ হওয়ার পর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর মারা গেছেন। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন স্বজনেরা।
শাহ মনিরুজ্জামান জসিম তালুকদার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাজদিহি গ্রামের আবদুল ওয়াহিদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হামিদনগর বরুণা এলাকার জামেয়া লুৎফিয়া আনওয়ারুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছিলেন। তার চার মেয়ে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। শ্রীমঙ্গলের ভৈরবগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন তিনি। শুক্রবার তিনি মাদ্রাসায় আছেন বলে ধারণা করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচে এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখানো একটি ভিডিও তাদের নজরে আসে। ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন স্থানীয় বিএনপির নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবাদুর রহমান মোশাহিদ।
ভিডিও দেখে অচেতন ব্যক্তিকে শাহ মনিরুজ্জামান জসিম তালুকদার বলে শনাক্ত করেন স্বজনেরা। এরপর তারা উদ্ধারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হন। তাকে উদ্ধার করে ভৈরবের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক স্থান ও সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তাকে কোনো চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে সেতুর নিচে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীরে দৃশ্যমান রক্ত বা আঘাতের চিহ্ন তারা দেখতে পাননি।
এদিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আহমদ জুবায়ের জুয়েলসহ অন্যরা ভৈরবে যান। শাহ মনিরুজ্জামানের মৃত্যুর কারণ এবং তিনি কীভাবে সেতুর নিচে অচেতন অবস্থায় পৌঁছালেন, তা জানতে পুলিশি তদন্তের তথ্য প্রয়োজন।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
