ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে চারটি গরু আটকের পর বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় নিহত যুবককেও আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে হালুয়াঘাট থানায় মামলাটি করেন ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) কড়াইতলী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার নায়েক রফিকুল ইসলাম। মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রোমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় গুলিতে নিহত মো. রুমান মিয়াসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য দুই আসামি হলেন হালুয়াঘাটের সংগ্র গ্রামের আতিকুল ইসলাম (৪০) ও শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা গ্রামের আবদুল্লাহ (৩৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হালুয়াঘাট সীমান্তে নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন বিজিবি সদস্যরা। এ সময় সীমান্ত পিলার ১১১৯ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় এক হাজার গজ দূরে ঝলঝলিয়া এলাকায় ভারত থেকে অবৈধ পথে চারটি গরু আনার খবর পান তারা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুগুলো আটক করেন বিজিবি সদস্যরা। আটক গরুর মধ্যে দুটি লাল ও দুটি সাদা রঙের। এজাহারে গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গরু নিয়ে ফেরার পথে ঝলঝলিয়া এলাকায় বিজিবি সদস্যদের পথরোধ করেন চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিরা। এ সময় দেশীয় অস্ত্র, ধারালো রামদা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা আটক চারটি গরুর মধ্যে দুটি ছিনিয়ে নিয়ে যান। বাকি দুটি গরু নিজেদের হেফাজতে রাখেন বিজিবি সদস্যরা।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বিজিবি সদস্যরা সতর্কতামূলক চারটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। তবে একপর্যায়ে হামলাকারীরা আবারও তাদের ওপর আক্রমণ করেন। এ সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে গুলি বের হয়ে রোমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের অভিযোগ, হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।
হালুয়াঘাট থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে। আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।
