নাটোরের বড়াইগ্রামে ফের ট্রাক ও বাসের সংঘর্ষে ১৪ নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
এর আগে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড় এলাকায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পাবনাগামী বালু বোঝাই ট্রাক ও কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জনের এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও অন্তত ৩০ জন।
নিহতদের মধ্যে শরীয়পুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুরুলের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেব গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শাহ আলাল মোল্লা (৪৫), কাজিরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), রাজাশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসটির চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামে বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালি জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮) এর পরিচয় জানা গেছে। বাঁকীদের পরিচয় সানাক্তের কাজ করছে।
আহতরা হলেন- শরিয়তপুর জেলার আলমগীর মাতবর (৫৫), চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার আব্দুস সালাম (৩৫), শিবগঞ্জের ওয়াহিদ আলী (২২), মাদারীপুর জেলার নাইম তালুকদার (২০), নারগিস আক্তার (৩৫), বরগুনার জেসমিন আক্তার (৩৫), নওগা জেলার নিয়ামত পুর উপজেলার চিরঞ্জিত কুমার (২৫), মান্দার উপজেলার মানিক হোসেন (৩৭), শাহাজুল ইসলাম (৩৬), লক্ষীপুরের রাকিব হোসেন (২৫) ।
নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ খান বলেন, পটুয়াখালি জেলার কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহন ও কুড়িগ্রাম থেকে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ১৪জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আব্দুস সালাম নামের এক যাত্রী জানান, পটুয়াখালির কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল বাসটি। তিনি মাদারিপুরের মোস্তাকপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার জন্য রাত ৯ টার সময় ওই বাসে উঠেন। তার আসন ছিল পিছনের দিকে। গাড়ীতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ভিতরে এতো যাত্রি ছিল যে পা ফেলার জায়গা ছিল না। গাড়ীটি অতিরিক্ত গতিতে চলতে ছিল। সময় সময় এমন ব্রেক করত আমরা আসন থেকে উপড়ে দিয়ে পরে যাচ্ছিলাম।
সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জাতীয় সংসদরে হুইপ রুহুল কুদ্দুর তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম, ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনা করা হবে। তবে তদন্ত কমিটির সদস্য গনের নাম পরে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে উপজেলার রেজুর মোড়ে ৩৮ জনের এবং ২০১৯ সালে পাবনা-নাটোর মহাসড়কের সাদিয়া পাম্পের সামনে ৯ জনের মৃত্যু হয়।
