কাগজে-কলমে শতভাগ রপ্তানি দেখানো হলেও বাস্তবে কারখানায় উৎপাদনের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাঁচামাল কারখানায় ব্যবহারের পরিবর্তে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে খোলাবাজারে। অভিনব এই কৌশলে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার করে সরকারের ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
গতকাল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজিমিজি দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত ‘ইউএজিএম বিডি লিমিটেড’ নামের একটি প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে ঝটিকা অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দার একটি প্রিভেনটিভ দল। প্রতিষ্ঠানটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর অধীন নিবন্ধিত। অভিযানকালে কর্মকর্তারা দেখতে পান, কারখানার উৎপাদনসংশ্লিষ্ট মেশিনপত্র সম্পূর্ণ অব্যবহৃত ও অচল অবস্থায় স্তূপাকারে পড়ে রয়েছে। যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সংগৃহীত বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে তার কোনো সামঞ্জস্য ছিল না।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে কাস্টমস গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি বন্ড কমিশনারেট থেকে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) নিয়ে কাগজে-কলমে রপ্তানি দেখাত, অথচ বাস্তবে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল অবৈধভাবে স্থানীয় খোলাবাজারে বিক্রি করে দিত।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের ফলে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারায়, তেমনি সৎ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন।
