সিসিকের ছুটি বাতিল, বিএনপির ৭ তদারকি কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার: আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এবার ৬৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮টি বেশি। উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন, সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা সূত্রে জানা গেছে, এবার সিলেট জেলায় সর্বজনীন ৪৪৮টি ও পারিবারিক ২৬টিসহ মোট ৪৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। মহানগরে সর্বজনীন ১৪৬টি ও পারিবারিক উদ্যোগে ১৬টিসহ পূজা হবে ১৬২টি মণ্ডপে। গত বছর জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬১৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে হিসাবে এবার মণ্ডপ বেড়েছে ১৮টি।
তিথির হিসাব অনুযায়ী এ বছর ছয় দিনব্যাপী দুর্গো উৎসবের সূচি: ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী (অধিক পূজা), ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুক্রবার বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার বার্ষিক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা, সড়ক সংস্কার, পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে. দুর্গাপূজায় নগরের ৮৫টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে সিসিক। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে টানা পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে কুমারী পূজার প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে এসব কথা জানান সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনে সিটি করপোরেশন সব সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে। পূজার সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পূজা শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে।
মহালক্ষ্মী মন্দিরে কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তা, মন্দিরের পরিচ্ছন্নতা ও আশপাশের এলাকার ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, সর্বজনীন পূজামণ্ডপের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে আয়োজিত পূজার ক্ষেত্রেও যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সড়ক উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে। কোনো পূজামণ্ডপে সমস্যা দেখা দিলে আয়োজকদের দ্রুত সিটি করপোরেশনকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হটলাইন ছাড়াও প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। পূজার সময় সিসিকের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন।
এদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সাতটি তদারকি কমিটি গঠন করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। নগরের ওয়ার্ডগুলোকে সাতটি ভাগে বিভক্ত করে বুধবার এসব কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্যরা নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির নেতা নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। শারদীয় দুর্গাপূজা যেন উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদ্যাপিত হয়, সে লক্ষ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের গুজব, উসকানি কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
এদিকে, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পূজা কমিটিগুলোকে সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং সেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত শুক্রবারের প্রতিনিধি সভায় সিলেট জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়নের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার দাস ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ যৌথভাবে সভা সঞ্চালনা করেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ এবং জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস।
প্রতিনিধি সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর শাখার সভাপতি সুব্রত দেব। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে পাঠ করেন জেলা শাখার সদস্য সঞ্জয় কুমার নাথ এবং শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জেলা শাখার সহসাংগঠনিক সম্পাদক প্রমোদ রঞ্জন দাস।
সভায় জেলা ও মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে একদিন ছুটি বাড়িয়ে দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা।
