সারাদেশে মহাঅষ্টমী উদযাপন, পূজামণ্ডপে ভক্ত-দর্শনার্থীদের ঢল
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে মহাঅষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন এবং চরণামৃত গ্রহণ করেন। বিভিন্ন মন্দিরে মহাপ্রসাদও বিতরণ করা হয়।
অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে সোমবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ আচার দেবী দুর্গার চামুণ্ডা রূপ ধারণ করে চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই অসুরকে বধ করার ঘটনাকে স্মরণ করায়।
দেশের বিভিন্ন মন্দিরে মহাঅষ্টমী উপলক্ষে কুমারী পূজারও আয়োজন করা হয়। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল সাড়ে ৯টায় এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ আচার অনুযায়ী, অল্পবয়সী অবিবাহিত বালিকাকে দেবী দুর্গা ও দিব্য নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। পূজার অংশ হিসেবে কুমারীর পায়ে জল, বস্ত্র ও ফুল নিবেদন করেন ভক্তরা।
গত শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, বর্ণিল সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জায় মুখর হয়ে উঠেছে মন্দির ও মণ্ডপগুলো।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে ২৫৮টি মণ্ডপ। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়েছে।
রাজধানীতে বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে গুলশান-বনানী পূজা ফাউন্ডেশনের আয়োজন দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। পাশাপাশি কলাবাগান মাঠ ও খামারবাড়িতে নির্মিত অস্থায়ী মণ্ডপগুলোতেও ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া রমনা কালীমন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ও উত্তরা সর্বজনীন মন্দিরেও প্রতিদিন দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার মহানবমী উদযাপিত হবে। এদিন মন্দির ও পূজামণ্ডপে পূজা, অঞ্জলি ও ভোগ নিবেদনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আচার পালন করবেন ভক্তরা।
বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। এদিন শোভাযাত্রাসহ প্রতিমা নিয়ে জলাশয়ে বিসর্জন দেবেন ভক্তরা। এর মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে।
