রাজধানীর চারটি কেন্দ্রে দ্যা স্কলারস ফোরাম ঢাকার বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে; আয়োজকদের হিসাবে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়, আর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৫০০ কক্ষ পরিদর্শক ও ৮০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন।
রাজধানীর চারটি কেন্দ্রে বেসরকারি সংস্থা দ্য স্কলার্স ফোরাম ঢাকার বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় স্কুল ও মাদরাসার তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
রাজধানীর চারটি কেন্দ্র হলো—তা’মীরুল মিল্লাত মহিলা কামিল মাদরাসা, ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা এবং বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ৫০০ কক্ষ পরিদর্শক ও ৮০০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া কেন্দ্র পরিচালক, সহকারী কেন্দ্র পরিচালক ও বিভাগীয় পরিচালকেরা সার্বক্ষণিক তদারকি করেন।

পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম, দ্য স্কলার্স ফোরাম ঢাকার চেয়ারম্যান ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, পরিচালক দেলোয়ার হোসেন রাসেল, সাবেক পরিচালক আহমেদ হোসেন রাসেল ও অ্যাডভোকেট সাফিউল আলম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শফিউল্লাহ, সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসাইন এবং নির্বাহী পরিচালক রাশেদুল ইসলামসহ ফোরামের অন্যান্য সদস্য।
সরেজমিনে বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, সেখানে ৮৫০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। কেন্দ্রজুড়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করেন কক্ষ পরিদর্শক ও স্বেচ্ছাসেবকেরা।
কেন্দ্রটির পরিচালক শফিকুল ইসলাম সাইফুল বলেন, “বিভাগীয় পরিচালক, কক্ষ পরিদর্শক, সহকারী কক্ষ পরিদর্শক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় সকাল ৯টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়। কোনো সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।”
দ্য স্কলার্স ফোরাম ঢাকার পরিচালক দেলোয়ার হোসেন রাসেল বলেন, “রাজধানীর প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির সাত সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সবার সহযোগিতায় প্রতিবারের মতো এবারও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।”
পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের বৃত্তি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, যোগ্যতা ও দেশ গড়ার মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠাও জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরির পাশাপাশি নিজেদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দেয়। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে দ্য স্কলার্স ফোরাম ঢাকার এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
দ্য স্কলার্স ফোরাম ঢাকার চেয়ারম্যান ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই ও মেধাবীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই আমাদের এ বৃত্তি কার্যক্রম। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠুক। দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রেখে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চাই।”
উল্লেখ্য, দ্য স্কলার্স ফোরাম ঢাকা ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান সংস্থাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
