১৭ মিনিট আগে
![]()
জাগরণ চাকমা
ঢাকার মগবাজারের একটি শোরুমে মোটরসাইকেল দেখছেন এক ক্রেতা। ছবি: মেহেদী হাসান
সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর থেকে দেশের বাজারে মোটরসাইকেল বিক্রির পরিমাণ কমেছে।
তথ্য বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৩৫ হাজার ৩৩৫ মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও, এ বছরের সেপ্টেম্বরে বিক্রি হয়েছে ৩৪ হাজার ৮৮৭টি।
অর্থাৎ, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি অন্তত ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারকরা বলছেন, তেলের দাম বাড়ায় যাতায়াতের খরচ বৃদ্ধি হওয়ায় মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে খরচ নিয়ে যারা সচেতন তাদের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয়েছে।
তাদের মতে, ক্রেতারা শুধু দামই হিসাব করেন না, প্রতিদিনের যাতায়াতে জ্বালানি খরচের বাড়তি চাপও তাদের বিবেচনা করতে হয়।
বাংলাদেশে হিরো ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক ও সংযোজনকারী যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠান এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী বিজয় কুমার মন্ডল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বিক্রি কিছুটা থমকে যায়। তরুণ ও চাকরিজীবীদের যারা দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল, তারা জ্বালানি খরচের বিষয়ে সচেতন।'
এসিআই মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তাদের কোম্পানির মোটরসাইকেলের চাহিদা প্রায় ১০ শতাংশ পড়ে গেছে।
তিনি বলেন, 'জ্বালানির দাম বাড়ার পর ক্রেতাদের অবস্থান এমন যে "দেখি কী হয়"। সার্বিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক।'
তবে পুরো বাজারের চিত্র একইরকম নয়। বিক্রির দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড ইয়ামাহার এ বছরের সেপ্টেম্বরে বিক্রি আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশ কমেছে। সেপ্টেম্বরে ইয়ামাহার ৮ হাজার ২৮৪টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে।
হোন্ডার বিক্রি ২১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৬৪৮ এবং বাজাজের বিক্রি ৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯৭৮টিতে নেমেছে।
টিভিএস মোটরসাইকেল বিক্রি ২৩ শতাংশ কমেছে। আর রয়েল এনফিল্ডের বিক্রি ৩০ শতাংশ কমেছে।
সেপ্টেম্বরে টিভিএস বিক্রি হয়েছে ৩৯১টি ও রয়েল এনফিল্ড বিক্রি হয়েছে ৪৭৪টি।
তবে বাজারে এর বিপরীত চিত্র সুজুকি ও হিরো। সুজুকি ব্র্যান্ডের বিক্রি ১৫ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৫৪৮টি এবং হিরো ১৩ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ২৮৬টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে সেপ্টেম্বরে।
রয়েল এনফিল্ডের বিক্রি কমার পেছনে অবশ্য ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। বাংলাদেশে রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলের একমাত্র পরিবেশক ইফাদ গ্রুপের গ্রুপ ভাইস চেয়ারম্যান তাসকিন আহমেদের মতে, বিক্রি কমার কারণ নতুন মডেলের অভাব।
তিনি বিক্রি কমার বিষয়টিকে 'সাময়িক' বলে উল্লেখ করে জানান, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তারা নতুন মডেলের চারটি ভিন্ন রঙের মোটরসাইকেল আনার পরিকল্পনা করছে।
তাসকিন বলেন, রয়েল এনফিল্ডের ক্রেতারা অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি তাদের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলে না।
এদিক, সম্প্রতি বৈদ্যুতিক টু-হুইলার বা ই-বাইকের চাহিদা বেড়েছে।
নিলয় বাংলাদেশের সিইও বিজয় কুমার মন্ডল জানান, এপ্রিল থেকে তারা প্রতিমাসে ৫ হাজার ই-বাইক বিক্রি করেছেন।
মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারকদের মতে, সাশ্রয়ী মূল্য ও জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহারই এখন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার প্রধান উপায় হতে পারে।
হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মুহাম্মদ আশেকুর রহমান বলেন, মানুষের যাতায়াত সহজ করতে হোন্ডা জ্বালানি-সাশ্রয়ী মোটরসাইকেল তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে।
'যেসব পরিবার জীবিকা নির্বাহের জন্য মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভর করে, জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী মোটরসাইকেল বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।'
ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল বিক্রিতে সামগ্রিক মন্দা এখনো কম। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে মোট মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে ৯৮ হাজার ৫৮০টি, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৯৯ হাজার ৩৭৬টি।
জুলাইয়ে বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কমেছিল, আগস্টে ৬ শতাংশ বেড়েছিল এবং সেপ্টেম্বরে আবার ১ শতাংশ কমেছে।
