বন্ধুর জন্মদিনে মধ্যরাতে চমক দিতে গিয়ে নিজেই চমকে গেলেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে কেক ও উপহার নিয়ে তাঁর বাসায় হাজির হয়েছিলেন ফারিয়া। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ দরজায় কড়া নাড়লেও সাড়া মেলেনি ভেতর থেকে। কারণ, জন্মদিনের প্রথম প্রহরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন পিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
১৪ অক্টোবর পিয়া জান্নাতুলের জন্মদিন উপলক্ষে এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
বন্ধুকে চমকে দিতে রাত ১২টার পর কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পিয়ার বাসার সামনে হাজির হন শবনম ফারিয়া। তাঁদের হাতে ছিল কেক ও উপহার। পরিকল্পনা ছিল, জন্মদিনের প্রথম মুহূর্তেই পিয়াকে শুভেচ্ছা জানাবেন। কিন্তু প্রায় আধা ঘণ্টা দরজায় নক করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দরজার সামনেই ভিডিও ধারণ করেন ফারিয়া।
ভিডিওতে মজার ছলে তিনি বলেন, ‘এটা পিয়া জান্নাতুলের বাসা। আধা ঘণ্টা ধরে আমরা নক করছি, কিন্তু যার জন্মদিন, সে দরজা খুলছে না। সে ঘুমিয়ে আছে। সো, পিয়া হ্যাপি বার্থডে। সকালে উঠে ভিডিওটা দেখো।’
পরদিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ভিডিওটির নিচে মন্তব্য করেন পিয়া। তিনি জানান, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস তাঁর। বন্ধুরা যে মধ্যরাতে আসবেন, তা আগে থেকে জানালে ভালো হতো। কারণ, ততক্ষণে বাসার সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। একই সঙ্গে বন্ধুদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ধন্যবাদও জানান তিনি।
বন্ধুত্বের গল্পেও আবেগ:
মজার এই ঘটনার পর পিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন ফারিয়া। সেখানে বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি লেখেন, জীবনের একটা পর্যায়ে বন্ধুত্ব মানে শুধু আড্ডা কিংবা একমত হওয়া নয়; বরং ভুল ধরিয়ে দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সাহায্য করা এবং প্রয়োজনে শক্তভাবে পাশে দাঁড়ানো।
ফারিয়ার ভাষায়, পরিণত বয়সের নারী বন্ধুত্ব কখনো বোন, কখনো অভিভাবক, আবার কখনো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরামর্শদাতার মতো হয়ে ওঠে।
মধ্যরাতের দরজায় কড়া নাড়ার ঘটনা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে দুই বন্ধুর হাস্যরস, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার এক মজার স্মৃতিতে।
